ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরাসরি সম্প্রচার বাতিল করলেন ট্রাম্প

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ০১:৫৪:৪৭
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সরাসরি সম্প্রচার বাতিল করলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফোর্ট হুডে ১৩ জনকে হত্যাকারী সাবেক সেনা কর্মকর্তা নাইডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিয়ে রিপাবলিকান নেতা, ধর্মীয় নেতাসহ সাধারণ মানুষের বিরোধিতার মুখে বৃহস্পতিবার পেন্টাগনপ্রধান পিট হেগসেথের পরিকল্পনা নাকচ করে দেন তিনি।

এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনার অবসান ঘটল। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজন হেগসেথের সঙ্গে তার বিরল প্রকাশ্য মতবিরোধের ঘটনাও সামনে এলো।
যদিও পেন্টাগন বলেছে, এ বিষয়ে দুজনের অবস্থান ‘সম্পূর্ণ এক’।

টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন হেগসেথ।
২০০৯ সালে হাসানের হামলার ঘটনাস্থল ছিল এই ঘাঁটি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য কোনো দেশ টেলিভিশনে বা সরাসরি সম্প্রচার করে বলে জানা যায় না।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সরাসরি সম্প্রচারের এ পরিকল্পনার বিষয়ে ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা আগে থেকে কিছু জানতেন না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমার মনে হয়, মৃত্যুদণ্ডের দৃশ্য সবার দেখার জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তা বিশ্বকে দেখানোর মাধ্যমে শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারতো, সন্ত্রাসী ও হাসানের মতো নোংরা লোকদের সঙ্গে আমেরিকা কীভাবে আচরণ করে। তবে অনেক ভালো ও সদুদ্দেশ্যসম্পন্ন মানুষ আছেন, যারা সরাসরি সম্প্রচার বা অন্য কোনো দৃশ্যমান মাধ্যমে তার মৃত্যুর দৃশ্য দেখতে চান না।’

ট্রাম্প আরও লেখেন, ‘নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। তবে এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করা হবে না।’

হাসানের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা চাইলে সরাসরি উপস্থিত থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে এটি প্রচলিত নিয়ম।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ ট্রাম্পের দলের কয়েকজন রিপাবলিকান নেতা এবং ধর্মীয় নেতারা পেন্টাগনের সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় থেকে শুরু করে তীব্র নিন্দা পর্যন্ত জানিয়েছেন।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর ক্যাথলিক সদস্যদের আধ্যাত্মিক সেবার দায়িত্বে থাকা আর্চবিশপ টিমোথি ব্রগলিও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, পোপ লিও সব ধরনের মৃত্যুদণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।

হাসানের আইনজীবীর সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে ৩ ডিসেম্বর নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।

হেগসেথের সঙ্গে মতবিরোধ
ট্রাম্পের মিত্র হেগসেথের সঙ্গে এটিই তার প্রথম বড় ধরনের প্রকাশ্য মতবিরোধ। তবে দুজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ ঘটনা হেগসেথের রাজনৈতিক অবস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

এক বিবৃতিতে পেন্টাগন জানায়, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সিদ্ধান্তটি ঘোষণা করার আগে হেগসেথের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। এ বিষয়ে তাদের অবস্থান সম্পূর্ণ এক।’

তথ্যসূত্র : রয়টার্স

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৬, ২০২৬)