ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শরিফপুরকে উন্নয়ন ও আধুনিকতায় বদলে দিতে চান যুবনেতা কনক

২০২৬ অক্টোবর ১৬ ১৮:০৭:৪৫
শরিফপুরকে উন্নয়ন ও আধুনিকতায় বদলে দিতে চান যুবনেতা কনক

রাজন্য রুহানি, জামালপুর : জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চলতি বছরের নভেম্বরে সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম এখন এই অঞ্চলের রাজনীতির মাঠ। নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরেশোরে গণসংযোগ শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন বিএনপি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে এই নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি আশার আলো জাগিয়েছেন শরিফপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের হাজীবাড়ির সন্তান, বিশিষ্ট যুবনেতা মো. মেহেদী হাসান কনক।

তৃণমূলের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে শরিফপুর ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়নের এক মহাপরিকল্পনা ভোটারদের সামনে তুলে ধরছেন এই তরুণ নেতা।

মেহেদী হাসান কনক কেবল একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বই নন, তার রয়েছে সুদৃঢ় পারিবারিক ঐতিহ্য। তিনি শরিফপুর তথা গোটা জামালপুর জেলায় এক নামে পরিচিত, সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব মরহুম আলহাজ্ব শাহাদত হোসেনের নাতি। তার দাদা ছিলেন ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য এবং রাঙ্গামাটিয়া ঈদগাহ সংলগ্ন মসজিদের আজীবন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাত-পা ভাঙা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে তিনি আজও মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয়।
কনকের বাবা শাহ আলী বাচ্চু জামালপুরের একজন প্রবীণ সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী এবং বহুল প্রচারিত 'দৈনিক পল্লী কণ্ঠ প্রতিদিন' পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক। এমন একটি সমাজসেবক ও সচেতন পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে শরিফপুরের মানুষের দুঃখ-কষ্টকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন কনক। আর সে কারণেই এবার তিনি শরিফপুরবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে সরাসরি মাঠে নেমেছেন।

২০০৮ সাল জামালপুরে সদর উপজেলার তৎকালীন সভাপতি মরহুম সাইদুর রহমান খোকার হাত ধরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের যোগ দেন মেহেদী হাসান কনক। পরের বছর ইউনিয়ন ছাত্রদলের আহ্বায়ক হন তিনি। এ সময় তিনি ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটি সুসংগঠিত করেন। পরবর্তীতে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে যুবদলে যোগ দেন। ২০১৩ সালে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক পদে অধিষ্ঠিত হন এই তরুণ নেতা। ২০১৪ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। যুবদলের সভাপতি থাকার কারণে ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় নান্দিনা বাজারে অবস্থিত তাঁর চশমার দোকানে প্রকাশ্যে ভাংচুর করে নগদ অর্থসহ ৫ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। তবুও তিনি দমে যাননি এতটুকু। প্রচণ্ড মনোবল নিয়ে তিনি বিএনপির সঙ্গেই যুক্ত রয়েছেন সবসময়।

নির্বাচনী গণসংযোগকালে মেহেদী হাসান কনক শরিফপুরের প্রধান প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে অবহেলিত ও খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাটের আমূল পরিবর্তন করবেন। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নত করে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করাই হবে তার অন্যতম প্রধান কাজ। পাশাপাশি, ইউনিয়নের অনুন্নত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো সংস্কার এবং শিক্ষার মানকে যুগোপযোগী করার ঘোষণা দেন তিনি। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে শরিফপুরের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন এই যুবনেতা।

শরিফপুর ইউনিয়নকে একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে গড়ে তুলতে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন কনক। তিনি বলেন, "মাদক ও জুয়া একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। আমাদের তরুণদের এই অন্ধকার থেকে আলোতে ফিরিয়ে আনতে হবে।" যুব সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে তিনি খেলাধুলা ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার ঘটানোর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান।

শিক্ষিত ও সাধারণ বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং কর্মমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করে স্বাবলম্বী শরিফপুর গড়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে, সমাজের গরীব, অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে সব সময় নিজের 'মানবতার হাত' বাড়িয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের যেকোনো বিপদে-আপদে পাশে থেকে সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে শরিফপুরের সামগ্রিক উন্নয়ন করতে চান তিনি।

শরিফপুর ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মতে, মেহেদী হাসান কনক একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির, উচ্চশিক্ষিত ও মার্জিত তরুণ নেতা। তার মতো ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান নেতৃত্বে এলে শরিফপুর সত্যিই একটি মডেল ইউনিয়নে পরিণত হবে। মাঠপর্যায়ের এই ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং পারিবারিক সততা বিবেচনা করে দল তাকেই ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে বলে আশাবাদী স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

তারুণ্যের উদ্দীপনা আর আধুনিক ভাবনার মেলবন্ধনে মেহেদী হাসান কনক এখন শরিফপুর ইউনিয়নের পরিবর্তনের এক আস্থার প্রতীক।

(আরআর/এসপি/অক্টোবর ১৬, ২০২৬)