ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » রাজনীতি » বিস্তারিত

‘উৎসবের আনন্দ সাম্প্রদায়িক ভেদরেখা মানে না’

২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৪:৪৮:৫৩
‘উৎসবের আনন্দ সাম্প্রদায়িক ভেদরেখা মানে না’

স্টাফ রিপোর্টার : দুর্গাপূজা শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করার উপলক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, কোনো উৎসবই সাম্প্রদায়িক ভেদরেখা বা সীমানার মধ্যে মানুষকে আটকে রাখে না।
বরং প্রতিটি উৎসব সব ভেদরেখা অতিক্রম করে মানুষকে ভ্রাতৃত্ববোধে একত্রিত করে। এটাই উৎসবের মর্মবাণী, এটাই উৎসবের মূলমন্ত্র।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, নবান্নের এই দেশে দুর্গাপূজা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। মানুষের ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু উৎসবের আনন্দ সবাইকে একসূত্রে বাঁধে।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ছোটবেলায় বাড়ির পাশে দুর্গাপূজার মেলা বসত। সেই মেলাকে ঘিরে রঙিন বেলুন, খেলনা পিস্তল ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্নের প্রতি আকর্ষণ ছিল। প্রতিবছর দুর্গাপূজার সময়টির জন্য আমরা অপেক্ষা করতাম।

প্রদীপ প্রজ্বলনের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, অগ্নি যেমন অনেক কিছুকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি আগুন মানুষের আত্মাকেও পরিশুদ্ধ করার প্রতীক।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, প্রজ্বলিত প্রদীপের প্রতীকী উত্তাপ যদি প্রতিটি প্রাণে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে সব ধরনের ক্লেদ, গ্লানি ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ একই মানবাত্মায় পরিণত হতে পারবে। এটাই উৎসবের মর্মবাণী।

তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজায় সবাই এক জায়গায় সমবেত হয়েছেন। এই সমবেত হওয়াই প্রমাণ করে দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান উৎসব হলেও এটি শুধু তাদের একার উৎসব নয়। এই উৎসবের আনন্দ ও উদযাপনে অন্য ধর্মের মানুষেরও অংশগ্রহণ রয়েছে।

মন্দিরের আয়োজকদের আতিথেয়তা ও উদারতার প্রশংসা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, অন্য সম্প্রদায়ের মানুষকে অভ্যর্থনা জানানো, শুভেচ্ছা বিনিময় করা এবং বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া প্রাণের উদারতা ও সম্প্রীতিরই বহিঃপ্রকাশ।

দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক মাস আগে থেকেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সরকারের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের নিরাপত্তাহীনতার পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকেও জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং জেলায় জেলায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের প্রয়োজন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। উৎসব নিরাপদ করতে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হচ্ছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন দাবির প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, তিন দিনের ছুটির দাবির বিপরীতে পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০ কেজির পরিবর্তে ৬০০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এছাড়া প্রতিটি মন্দিরের জন্য মাসিক আট হাজার টাকা বরাদ্দ এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান রিজভী। তিনি বলেন, মন্দিরে ভক্তরা তাদের ইষ্টদেবতার কাছে প্রার্থনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের মঙ্গল কামনা করেন। সেই প্রার্থনা যেন নির্বিঘ্নে করতে পারেন, সেজন্য মন্দিরে শান্তি ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপত্তার অভাব থাকলে ভক্তদের প্রার্থনায় মনোযোগ বিঘ্নিত হতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপ ও মন্দিরের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে রিজভী বলেন, এ উৎসব সাফল্যমণ্ডিত ও আনন্দময় হোক। সবার জীবনে নতুন আনন্দের দিগন্ত উন্মোচিত হোক।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৭, ২০২৬)