প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
প্রেমের টানে চীনের যুবক মাদারীপুরে, মুসলিম হয়ে বিয়ে করতে চান
২০২৬ অক্টোবর ১৭ ১৮:৩০:২৭
মাদারীপুর প্রতিনিধি : হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে চীন থেকে মাদারীপুরের প্রেমিকার বাড়ি চীনা যুবক। অচেনা-অজানা দুইজনের পরিচয় মাত্র কয়েক মাস হলেও ভালোবাসার টানে ছুটে এসেছেন বাংলাদেশে। আর এদিকে চীন থেকে আসা যুবককে এক নজর দেখেতে পাশে পাশের মানুষজন প্রেমিকার বাড়িতে ভীর করছেন। এমন ঘটনা ঘটেছে মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের মোস্তফা বেপারীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে হাফিজা আক্তারের সাথে ‘ওয়াল্ড টক’ অ্যাপের মাধ্যমে মাত্র চার মাস আগে পরিচয় হয় চীনের হেনান প্রদেশের যুবক ওয়াং এরলিং’-এর। পরে নিয়মিত দুজনের মধ্যে চলে চ্যাটিং। বাড়ে ঘনিষ্টতা। প্রথমে বন্ধুত্ব, পরে হয় প্রেম। অবশেষে হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে গত ১৫ অক্টোবর চায়না থেকে ঢাকার হযরত শাহ্ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসেন যুবক। পরে হাফিজার আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে প্রেমিকার বোনের বাসায় ওঠেন তিনি। পরদিন ১৬ অক্টোবর প্রেমিকার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে আসা হয় তাকে। ভাষা, দেশ আর সংস্কৃতি আলাদা হলেও ভালবাসার টানে ছুটে আসেন প্রেমিক ওয়াং এরলিং।
এই খবর ছাড়িয়ে পরলে আশে পাশের মানুষজনসহ আত্মীয়-স্বজনও চীনা যুবককে এক নজর দেখার জন্য ছুটে আসেন। এদিকে এই খবর পেয়ে হাফিজার বাড়িতে যান থানা পুলিশ ও প্রশাসন। চলছে তার কাগজপত্র যাছাই-বাছাই। পরিপূর্ণ তথ্য সঠিক থাকলে শিগগিরই প্রেমিকা হাফিজা বিয়ে করতে আগ্রহী চীনা যুবক। তাছাড়া এ চীনা যুবক প্রেমিকাকে বিয়ে করতে মুসলিমও হতে চান। পরে বৌ নিয়ে নিজ দেশে ফেরার কথা জানান প্রেমিক ওয়াং এরলিং।
কৃষক মোস্তফা বেপারীর ৬ ছেলে-মেয়ের মধ্যে হাফিজা ৪র্থ। এদিকে চীনের একটি ওয়ার্কশপের দোকানে ওয়াং এরলিং কাজ করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
হাফিজা আক্তার বলেন, ওয়াং এরলিং-এর ছবি দেখে আমার ভাল লাগে। পরে দুজনের প্রেম হয়। পরিবারের সম্মতিতেই আমরা দুজনে বিয়ে করতে চাই। ওয়াং এরলিং বলেছে আমাকে চায়না নিয়ে যাবে। আমিও সেখানে যেতে আগ্রহী। তার সব তথ্য সঠিক হলেই তবে আমি তাকে বিয়ে করবো।
চীনা যুবক ওয়াং এরলিং বলেন, আমার মুসলিম হতে আপত্তি নেই। আমি আসার আগে আমার পরিবারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে এসেছি। বিয়ে করে বৌ নিয়েই নিজ দেশে ফিরতে চাই।
হাফিজা আক্তারের বাবা মোস্তফা বেপারী বলেন, আমার মেয়ে যেখানে সুখে থাকবে, আমি সেখানেই ওর বিয়ে দিবো। যা কিছু হবে সব সামাজিকতা রক্ষা করেই হবে।
চীনা যুবককে দেখতে আসা আখি ইসলাম বলেন, চীনের যুবককে নিজ চোখে দেখতে হাফিজার বাড়িতে এসেছি। দেখে খুব ভালো লাগলো। কখনও চীন দেশের মানুষকে দেখিনি।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চীনা যুবক আসার খবরে মেয়েটির বাড়িতে যায় পুলিশ। ছেলেটি চায়না থেকে এসেছে কিনা তার পাসপোর্ট ও তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চীনা যুবককে কলেজ পড়–য়া মেয়ে বিয়ে করবে কিনা সেটা তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্ত।
(এএসএ/এসপি/অক্টোবর ১৭, ২০২৬)
