ঢাকা, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » শিল্প-সাহিত্য » বিস্তারিত

‘শিল্প তো শিল্পের পথে হাঁটবে, সে পথে যদি হোঁচট খাই, তাহলে আরো একটি কাজ বেড়ে গেল’

২০২৬ অক্টোবর ১৮ ০০:০৩:৩৯
‘শিল্প তো শিল্পের পথে হাঁটবে, সে পথে যদি হোঁচট খাই, তাহলে আরো একটি কাজ বেড়ে গেল’

সাক্ষাৎকার

অধ্যাপক ড. রেজা আরিফ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপনা করেন। ঢাকার মঞ্চে তার সৃষ্টির নান্দনিক প্রয়াস দর্শকের মনে থাকবে অম্লান। তিনি শুধু একজন শিক্ষকই নন। তিনি নাট্য নির্দেশকও বটে। আসলে কী ড. রেজা আরিফ যেনো চলনে বলনে একজন কবি। তাঁর সৃষ্টি একদিন সত্যিই জায়গা করে নেবে ইতিহাসের পাতায় পাতায়।

তাঁর নির্দেশিত দুটি নাটক আমি দেখেছি একটি ‘সে রাতে পূর্ণিমা ছিলো’ দ্বিতীয়টি ‘কারবালার জারি’। তাঁর সৃষ্টি আমার মস্তিষ্কে দাগ কেটে গেছে। তাঁর আরও দুইটি অমর প্রয়াস ‘রহু চন্ডালের হাড়’। ও সিদ্ধার্থ। আমি যখন সে রাতে পূর্ণিমা ছিলো একটি অসাধারণ প্রযোজনা বললাম, তখন আরিফ বলে আমি সে রাতে পূর্ণিমা ছিলো আমার কাছে ভালো লাগেনি। ভালো লাগেনি বলে সৃষ্টি নতুন নতুন পদ সম্ভারে অনেক মঞ্চে শোভা পায়। সৃষ্টির আনন্দ আছে বেদনাও আছে। বেদনা আছে বলেই একের পর এক প্রযোজনা সৃষ্টির আনন্দে নাচে। ড. রেজা আরিফ জীবন যাপনে একেবারে সিম্পল। নাটকে কিভাবে এলেন বলতেই, গর্ব করে বলে ফেললেন, আমার বড় ভাই আওয়াল রেজার কারণে। ছোটবেলা থেকে ড. আরিফ দাদার কাছে তামিল নেন। তাঁর এতো এতো সৃষ্টির পেছনে যার হাত স্পষ্ট তিনি আওয়াল রেজা। আওয়াল রেজা দেশ নাটকে কাজ করেন। তাঁর বাবা এ এইচ রেজা। চাকরি করতেন। তাঁরা তিন ভাই বোন। ড. রেজা আরিফ ভাইবোনদের মধ্যে দ্বিতীয়। মা মৃত সেলিনা মাহমুদা রেজা। ড. রেজা আরিফ তুখোর ছাত্র । তাঁর বাবা মা চাইতেন বড় হয়ে আমার ছেলে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু তার বড় ভাই আওয়াল রেজা তাকে শিল্পী হিসেবে গড়ে তুললেন। ড. আরিফ তার বর্তমান অবস্থানের পেছনে তার বড় ভাই আওয়াল রেজার অবদান রয়েছে বলে স্বীকার করেন। বড় ভাইকে এতো বড়ো করা যায় তা ড. আরিফের কথা শুনলে বোঝা যায়, ড. রেজা আরিফের জন্ম কুষ্টিয়াতে ১লা বৈশাখ, ১৪ এপ্রিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্দেশনার উপর এমএ করেছেন। তার দাদার বাড়ি চুয়াডাঙ্গা, আলমডাঙ্গা। ড. রেজা আরিফ তার বড় ভাই আওয়াল রেজার পথ ধরে হেঁটেছেন। তার সমস্ত সৃষ্টি তার দাদার চরণতলে আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন আমার শিল্প ভাবনাকে উচ্চতর জায়গায় নিয়ে গেছে। তাঁর কাছ থেকেই শেখা থিয়েটারের নবতর পাঠ। ড. রেজা আরিফ কাউকেই ফেলে দেননি। যে কৃষক ধান বোনে ফসল ফলায় তাকেও সম্মান দিতে ভুলে যাননি। একটি মানুষ এতো এতো বেদনা নিয়ে ছুটে চলেছেন শিল্পের যাত্রায় তাই বলি, জয় হোক তার। জয় হোক আওয়াল রেজার। জয় হোক নাটক ও নাট্যততত্ব বিভাগের। তাকে নিয়ে লিখেছেন পীযূষ সিকদার।

পীযূষ: তুমি ঢাকার মঞ্চে একটি নাম। তুমি একের পর এক নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছো। তাতে তুমি একটি অসাধারণ উত্তুঙ্গে পৌঁছে গেছো। আরো অনেক পথ সে পথেও তুমি সাবলীলভাবে পৌঁছে যাবে এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সে রাতে পূর্ণিমা ছিলো এটি তোমার অসাধারণ প্রযোজনা।

ড. আরিফ: দাদা। এই প্রযোজনাটি আমার একদম ভালো লাগেনি।

পীযূষ: কী বলছো তুমি! এতো সুন্দর একটি প্রযোজনা আর তুমি বলছো তোমার ভালো লাগেনি। এই নাটকটি দিয়েই তোমার দল আরশীনগর বিপুল সমাদৃত হয়। আর তুমি বলছো, তোমার ভালো লাগেনি। তার মানে তুমি পথটাকে ছোট করছো না। তোমার কারবালার জারি দেখে তো আমি রীতিমত অবাক!

ড. আরিফ: আপনি আমাকে ভালোবাসেন তাই বলছেন। আমি তো হাঁটি পথে পথে। আমি এক জায়গায় থেমে থাকতে চাইনি।

পীযূষ: রহু চন্ডালের হাড়’ আমি দেখিনি। তবে শুনেছি ভালো একটা প্রযোজনা।

ড. আরিফ: শিল্প তো শিল্পের পথে হাঁটবে, সে পথে যদি হোঁচট খাই, তাহলে আরো একটি কাজ বেড়ে গেল। আমার প্রযোজিত নাটক ‘সিদ্ধার্থ’ আমার নির্দেশনায় ভালো লেগেছে।

পীযূষ: আমি সিদ্ধার্থ নাটকটি দেখিনি। তবে কোনো একদিন দেখে নেবো। তুমি নির্দেশক এখন সবাই জানে। নানা বিশেষণে তোমাকে ডাকা হয়। তোমার নির্দেশনা বাদে আরো একটি প্রতিভা তোমার আছে। সেটি তোমার লেখা। তুমি অসাধারণ একজন কবি লেখক। তোমার কবিতার মধ্যে যাদু আছে। আমার মনে হয়, তোমার এক একটি কবিতা এক একটি গান। অসাধারণ তোমার লেখকসত্ত্বা।

ডা. আরিফ: দাদা, এভাবে বলবেন না। লিখতে চাই তাই লিখি। ভালো মন্দ তো পরের কথা।

পীযূষ: আরিফ এই যে তুমি অধ্যাপনা করছো। নির্দেশনা দিচ্ছো। কবিতা লিখছো, গান লিখছো। তোমাদের পরিবার কী এর চল ছিলো?

ড. আরিফ: বলে রাখা ভালো, ছোটবেলা থেকেই আমি ভালো ছাত্র ছিলাম। বাবা মায়ের ইচ্ছে ছিলো, অন্য কিছুর। কিন্তু আমার বড় ভাই আওয়াল রেজা যে শিল্পের বীজ পুঁতে ছিলেন, সেই থেকেই আমি শিল্পের পথেই হাঁটছি। আমি যা শিখেছি পরিবার থেকেই শিখেছি। আমার বড় ভাই আওয়াল রেজার হাত ধরেই আমি শিল্পের ভুবনে ডুব দিয়েছি। আমার বড় ভাই লিখতেন। অভিনয় করতেন। দেশ নাটকের একজন সম্মানিত সদস্য। পরিবারে কিছু থাকতে হয়।

পীযূষ: ঠিক।

ড. আরিফ: আমরা তো পরিবারেই শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠি। ভালো কী মন্দ! আমি এই যে কথা বলছি। এর পেছনে যার হাত ছায়া হয়ে আছে। আমার ভাই কবিতা লিখতেন, গান লিখতেন। নব্বই-এর দশকে ব্যান্ড সংগীতের ভীষণ জনপ্রিয়তা ছিলো। ওই সময়ে আমার বড় ভাই ব্যান্ডের লিরিকস্ লিখতেন। ডায়েরি লিখতেন। আমি ডায়েরিতে কী লিখতেন। আমি চুবি করে দেখতাম। সেখানে কবিতা ছিলো, গান ছিলো। প্রেমের চিঠিও ছিলো। আমার ভাই আমার চেয়ে অনেক বড় ছিলেন। ১০ বছরের বড় হবে। তাই ভায়ের পথটাকে নিজের পথ মনে করে হেঁটেছি। ভাইয়ের লেখা পত্রিকায় ছাপা হতো। অনেক ব্যান্ড ভাইয়ের লেখা গান গাইতেন। এসব দেখে দেখে বড় হয়েছি। আওয়াল রেজা সুন্দর গান লিখতেন। সুর দিতেন। তখন নিজের মধ্যে এ সবের দাগ এসে লাগে। ভায়ের নাম ডাক যখন তুঙ্গে তখন সে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ে। কুষ্টিয়াতে ভাইয়ের অনেক নাম ডাক। সে আমাকে নিয়ে নাটক দেখতে নিয়ে যেতো।

পীযূষ: তাহলে তোমার বড় ভাই-ই তোমার প্রেরণা। সেই তোমার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে।

ড. আরিফ: না। ভিত্তিটা অনেক পরে হয়েছে। আওয়াল ভাই আমার ভেতরে একটি স্ফুলিঙ্গ ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। আর ভিত্তিটা অনেক পড়ে হয়েছে। ভিত্তিটা হয়েছে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ও নাট্যদিশারি আফসার আহমদের হাতে হয়েছে। কিন্তু প্রথম আলো জ্বেলেছিলো আমার বড় ভাই আওয়াল রেজা। আমি তার মতোই হতে চেয়েছিলাম। সে ভীষণ দুদর্শন ছিলেন। তার লম্বা লম্বা চুল ছিলো। ভালো অভিনয় করতেন। আমি আসলেই তার মতো হতে চেয়েছিলাম। আওয়াল ভাইকে আমার হিরো মনে হতো। তার লেখা পত্রিকায় ছাপা হতো। আমরা বন্ধুরা মিলে ভাইয়ের লেখা পড়তাম। অভিনয় করতাম। আসলে সব সময়ই আমি তাকে অনুসরণ করতাম। আজ যে থিয়েটার করছি, তা তারই দেখানো পথ। আওয়াল রেজা ভাইয়ের পথেই আমি হেঁটেছি। এখনও হাঁটছি।

পীযূষ: সত্য কথা কী আওয়াল রেজা ভাই-ই তোমার অনুপ্রেরণা?

ড. আরিফ: ঠিক তাই। শিল্প সাহিত্যের পথে চলার শক্তি যুগিয়েছে আওয়াল রেজা ভাই। এই যে, সুকুমার বৃত্তি তার কাছ থেকেই শিখেছি।

পীযূষ: ফিলোসফিটাও কী তার কাছ থেকে নেয়া?

ড. আরিফ: না। সেটা আমি বলবো না। ফিলোসফি তো দিন দিন পাল্টায়।

পীযূষ: এই যে তুমি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হলে, তোমার বাবা মায়ের ভিন্ন মত ছিলো।

ড. আরিফ: আগেই বলেছি, আমার বড় ভায়ের সাপোর্ট ছিলো বলেই আমি নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হয়েছি। তার সাপোর্ট না থাকলে আমি এখানে আসতে পারতাম না। আমি নাটক পড়ি। বাবা-মায়ের সাপোর্ট ছিলো না। আমি ভালো ছাত্র ছিলাম। বাবা মায়ের সাধারণত: ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হবার স্বপ্ন দেখাতো। সাধারণত: বাবা মায়েরা চাইতো ভালো ছাত্র হলে তাকে নানা কিছু হবার স্বপ্ন দেখাতো। মা চুপ থাকতেন। আমার বাবা কোনো ভাবেই চাইতেন না। ভাইয়ের জন্যই আমি নাটক নিয়ে পড়াশোনা করি। নাটক পড়ে করবে কী? এতো এতো অনিশ্চিয়তা। নাটক পড়ে অনিশ্চিত জীবন, এটা আমি কোনোদিন বিশ্বাস করিনি। আমি তো এম,এ করে এ্যাডকম-এ চাকরি করেছি। পরে শিক্ষকতা। নাটক পড়লে অনিশ্চিত জীবন পাবো তা আমি বিশ্বাস করি না। আমার বাবা তো একদিনও চাননি। আমি নাটক পড়ি। আমার আশেপাশের শুভাকাঙ্খীরাও রাজী ছিলেন না। কিন্তু আমার একমাত্র যিনি আমাকে নাটক পড়ার অনুপ্রেরণা সে আমার ভাইয়া আওয়াল রেজা। আমি তো বরাবর ভালো ছাত্র ছিলাম। অন্তত: ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত। আওয়াল ভাইয়ের জন্যই আমার নাটক পড়া।

পীযূষ: আসলে তোমার বড় ভাই আওয়াল রেজা তোমার জীবনে আশীর্বাদ।

ড. আরিফ: একদম খাটি কথা। আমার ভাই যদি আমাকে সাপোর্ট না দিতো তাহলে এখানে আমি আসতে পারতাম না। একেবারেও আমার জীবনের একজন নবতর নির্মাতা। তিনিই আমাকে আজ এইখানে দাঁড় করিয়েছেন। ভাইয়ের সাপোর্ট ছাড়া আমি হয়তো অন্যকিছু হতাম। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হতে পারতাম না।

পীযূষ: তোমাকে দেখলে সৃষ্টিশীল মানুষ মনে হয়। কিন্তু পেইন-টা একটু বেশি মনে হয়।

ড. আরিফ: দাদা, ঠিক ধরেছেন। কষ্টের কথা পরে একদিন বলা যাবে। আমি যখন সিক্স-সেভেন-এ পড়ি তখন ভাইয়া ঢাকায় চলে আসলো। তখন সে দেশ নাটক করে। একদিন আমাকে ভাইয়া ঢাকায় নিয়ে আসলো। তখন সে দেশ নাটক করে। তখন দেশ নাটক দর্পণে শরৎশশী নাটকটি করছিলো। ভাই ওই নাটকে সীতিকণ্ঠ চরিত্রটি করে। দারুণ অভিনয় করলো। ওই নাটকে বড় বড় অভিনেতা অভিনেত্রী অভিনয় করেছিলেন। সালাউদ্দিন লাভলু, আফসানা মিমি। আফসানা মিমিকে নিয়ে টিভিতে দেখেছি কিন্তু একেবারে সামনাসামনি দেখা হলো। এ আমার দারুণ সৌভাগ্য। ভাইয়ার অভিনয় দেখে আমার ভেতরে নাটক করার উৎসাহ তৈরি হলো।

পীযূষ: এখন তোমার বড় ভাইয়া কী দেশ নাটকই করে?

ড. আরিফ: দেশ নাটক ছেড়ে প্রাঙ্গণেমোরে যোগ দিলেন।

পীযূষ: সে কি এখনো প্রাঙ্গণেমোর-এ আছে? ড. আরিফ। না। এখন সম্ভবত নেই। এখন সে থিয়েটার করে না। তবে দেখেন।

পীযূষ: প্রফেশনাল-ই তিনি এখন কী করেন?

ড. আরিফ: এখন সে একটি রেষ্টুরেন্ট চালায়। ভেতো বাঙালি। দারুণ চলে। কিন্তু শিরায় শিরায় তার থিয়েটার।

পীযূষ: আরিফ প্রথম তোমায় আমি দেখি এ্যাডকম-এ। তখন তুমি এ্যাডকম- থেকে বিদায় নিচ্ছো। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিয়েছো। তখনই তোমাকে সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে। এতো বিনয় তোমার। আমি আশ্চর্য হয়েছি।

পীযূষ: আমি প্রথম তোমাকে আবিষ্কার করি কারবালার জারি দেখে। সেই সময়ে প্রোডাকশন-টি সম্ভবত: ছাত্র-ছাত্রীদের প্রযোজনা ছিলো।

ড. আরিফ: হ্যাঁ। একেবারে ঠিক বলেছেন।

পীযূষ: আমার একটি কথা বারবার মনে হয়। আমরা শহুরে নাটক করছি। দর্শক মোটামুটি। কিন্তু গ্রামে কোনো বিনোদন নেই। আচার্য সেলিম আল দীন যেমন থিয়েটাকে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই উদ্যোগটা আমার ভালো লেগেছিলো। গ্রামে দর্শকের অভাব নেই।

ড. আরিফ: হ্যাঁ। ঠিক তাই। আমরা আবার গ্রাম থিয়েটার নিয়ে কাজ করছি। শহরে তো খেটে খাওয়া মানুষ তো আর নাটক দেখে না। তারা ভয় পায়। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে।

পীযূষ: কথা আর বাড়াবো না। এখানেই ইতি টানছি। আমাদের গ্রামমুখী হওয়া ভীষণ জরুরি। মানুষের ভাত আছে। বিনোদন নেই। তুমি যে বললে ফিলোসফি পাল্টায়। আমার কাছে কী মনে হয় আরিফ। ফিলসফি বারবার ফিরে ফিরে আসে। তোমার নাট্যযাত্রার জয় হোক। গ্রামে গ্রামে থিয়েটার ছড়িয়ে দাও। আমরা তখন সত্যিকারের মানুষ হবো।

ড. আরিফ: সত্যি দাদা, আমাদের মানুষ হওয়া জরুরি। মানুষ না হলে থিয়েটার কে করবে। কে দেখবে।

পীযূষ: জানো আরিফ, স্যার আচার্য সেলিম আল দীন বলতেন,

তোমাদের হাতের তালুতে চাঁদ

সেই চাঁদ উচ্চে তুলে ধরো

তোমাদের পদযুগলের নীচে মাটি

সেই তোমাদের মঞ্চ।

আর গল্পগুলো খুঁজে নাও পাহাড়ে সমুদ্রে অরণ্যে...।

ড. আরিফ: বাঃ দারুণ কথা। ভালো থাকবেন দাদা।

পীযূষ: তুমিও। জয় হোক তোমার। জয় হোক থিয়েটারের।