প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
দ্রুত চর কেটে নাব্যতা সংকট দূর করার দাবী
নাব্যতা সংকটে শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন ব্যবসায় ধস
২০২৬ অক্টোবর ১৮ ১৮:৫৭:২১মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে পর্যটক ও ব্যবসা বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চর জেগে ওঠায় ঘাটের স্বাভাবিক চিত্র বদলে গেছে। ঘাটের কাছে চর জেগে ঞাল চর ও ঘাটের মাঝে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ট্রলার চলাচলে বিপর্যয় নেমে এসছে। এতে পর্যটকরা ঘাট বিমুখ হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে বড় একটি চর জেগে ওঠায় একটি মাত্র অত্যন্ত ছোট্ট চ্যানেল দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে কোনমতে ট্রলারগুলো চলাচল করছে। ঘাটের কাছে চর পড়ে চর ও ঘাটের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে একটি খালের। এই খালেও আবার নেই পানি। সামান্য পানিতে ট্রলারগুলো ঝুকি নিয়ে ঘাটে ভিরছে। আর এ খাল থেকে নদীতে যেতে-আসছে ছোট একটি চ্যানেল দিয়ে কোনমতে চলাচল করছে ট্রলার। মুখোমুখি দুটি ট্রলার এক সাথে এ চ্যানেল পার হতে পারছেনা। তাছাড়া তেমন সুব্যবস্থা না থাকায় ট্রলার থেকে নামার সময় পর্যটক যা যাত্রীরা পড়ে যাচ্ছে কাঁদা মাটিতে। কখনও কখনও পড়ে গিয়ে অনেকই আহত হচ্ছে। নাব্যতা সংকট ও ভোগান্তির কারণে পর্যটকরা এখন শিমুলিয়া ঘাট বিমুখ হয়ে পড়ছেন। ফলে পর্যটক নির্ভর এই ঘাটের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়।
স্থানীয়দের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঘাট সংলগ্ন সামনের চরটি বা জেগে ওঠা চর কেটে ফেলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই চরটি কেটে ফেললে পুনরায় প্রয়োজনীয় নাব্যতা ফিরে আসবে এবং নির্বিঘেœ ট্রলার চলাচল করতে পারবে ঘাট থেকে। এতে ঘাটে আবার পর্যটকদের ভিড় জমবে এবং প্রাণ ফিরে পাবে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভ্রমণ পিপাসুদের।
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার কাউসার শেখ জানান, প্রায় ৯ শতাধিক ট্রলার চালক ও শ্রমিক জড়িয়ে আছে এই ঘাটকে কেন্দ্র করে। ঘাট সংলগ্ন চরটি কেটে নাব্যতা সংঘট দূর না করলে এসকল লোকজন না খেয়ে মরবে। তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর উপায় থাকবেনা।
অপর ইজারাদার হামিদুর রহমান জানান, একানে দুটি ঘাট রয়েছে। একটি দেশীয় ঘাট আর অপরটি পর্যটক ঘাট। দুটি ঘাটে অর্ধকোটি টাকার উপরে ইজারা হয়েছে। চর পরার কারণে এখন ঘাট দুটি মরে গেছে। পর্যটকরা এখানে আসে ট্রলারে চড়ে নদী দেখতে ও সেই সাথে পদ্মা সেতুর সুন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু যেহেতু ঘাট থেকে ট্রলার চলাচল প্রায় অচল তাই পর্যটকরাও ঘাট মুখী হচ্ছে কম। এতে আমাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে। কর্তৃপক্ষের উচিৎ দ্রুত ঘাট সংলগ্ন চরটি কেটে ঘাটের কাছে নাব্যতা ফিরে আনা। নতুবা বর্তমানে পর্যটক নির্ভর এ ঘাটের সর্বশেষ জৌলুশটিও আর থাকবেনা।
শিমুলিয়া নদী বন্দরের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ খান জানান, ঘাট সংলগ্ন পদ্মা নদীর কাছে একটি চর পরে ঘাট ও চরের মাছে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। নদী থেকে এই খালে পর্যটকবাহী ট্রলারগুলো যাতায়াত করতে পরছেনা। এতে পর্যটকরা বিরক্তবোধ করছে এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) শিঘ্রই এই চরটি কেটে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে। তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সকল মহলের সহযোগিতা না থাকলে এই চর কাটা সম্ভব হবেনা। আশা করছি এলাবাসী এ ব্যাপারের সকল সহযোগিতা করবে।
(এমকে/এসপি/অক্টোবর ১৮, ২০২৬)
