ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » বিনোদন » বিস্তারিত

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ল ‘নিশি’

২০২৬ অক্টোবর ১৯ ১৪:০৯:৩৩
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ল ‘নিশি’

বিনোদন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসব ‘ভিজিআইকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী চলচ্চিত্র উৎসব’। এই আয়োজনের ৪৬তম আসরে নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘নিশি’।

এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো এই উৎসবে জায়গা করে নিল বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র।

প্রযোজনা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া জানিয়েছে, রাশিয়ার বিখ্যাত গেরাসিমভ ইনস্টিটিউট অব সিনেমাটোগ্রাফি আয়োজিত উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে গোলাম রাব্বানী ও জহিরুল ইসলামের যৌথ পরিচালনায় নির্মিত ‘নিশি’।
বিশ্বের প্রাচীনতম চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে আগামী ১৬ থেকে ২০ নভেম্বর মস্কোতে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবটি।

গোলাম রাব্বানীর গল্প ও চিত্রনাট্যে নির্মিত চলচ্চিত্রটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন চা-শ্রমিকের মেয়ে নিশি, চা-শ্রমিক বিশ্বজিৎ, গণেশ ও ভারতী।

এ অর্জন নিয়ে নির্মাতা গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘বাংলা সিনেমার ইতিহাসে নিশি একের পর এক রেকর্ড গড়ছ, সত্যিই এটা আনন্দের খবর। এই অর্জন শুধু আমাকে নয় আমাদের ফিল্ম ইতিহাসকে বিশ্বের দরবারে সমৃদ্ধ করবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স ও ইউনেসকো ঢাকার সহযোগিতায় নির্মিত ‘নিশি’র গল্পে উঠে এসেছে চা-বাগানের এক পরিবারের জীবনসংগ্রাম। পানির সংকটের কারণে এক চা-শ্রমিকের মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িতে একটি নলকূপ বসিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা নিশিকে বিয়ে করতে চায় কাঠ ব্যবসায়ী লালচাঁন। এমন পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় চলচ্চিত্রটির গল্প।

সিলেটের একটি চা-বাগান ও আশপাশের এলাকায় চলচ্চিত্রটির শুটিং হয়েছে। এর চূড়ান্ত সম্পাদনা, রঙের কাজ ও শব্দ সংযোজন করা হয়েছে পোল্যান্ডের বিখ্যাত লজ ফিল্ম স্কুলে। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী নাতালিয়া পুসনিক।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম এমা অ্যাওয়ার্ড জিতে প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছিল ‘নিশি’। এছাড়া গ্রিন মন্টেনিগ্রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ১২তম আসরেও পুরস্কার পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ধারাবাহিক এই সাফল্যের মধ্য দিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ১৯, ২০২৬)