ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত

৩৬৪ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

২০২৬ অক্টোবর ২০ ০০:৫৯:৫৪
৩৬৪ কোটি টাকার ইউরিয়া সার কিনবে সরকার

স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের কৃষি খাতের জন্য মোট ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর মধ্যে বাংলাদেশ-সংলগ্ন কাফকো থেকে ৩০ হাজার টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া এবং সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৮০ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া কেনার প্রস্তাব রয়েছে। দুটি প্রস্তাবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৪ কোটি ৭৮ লাখ ৩৯ হাজার ১৭৫ টাকা।

সোমবার অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৫০তম সভায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব দুটি উপস্থাপন করা হয়। কমিটি উভয় প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। একই সভায় ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জন্য ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে তা প্রত্যাহার করা হয়।

সরকারি নথি অনুযায়ী, কাফকো থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাবে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৫ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৪০৮ দশমিক ৩৭৫ মার্কিন ডলার। প্রস্তাবে কাফকোকে সুপারিশকৃত সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস কোম্পানি থেকে ৮০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানিতে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ৪৮ লাখ ৯ হাজার ৮০০ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রতি মেট্রিক টনের দাম ধরা হয়েছে ৪০১ দশমিক ৬৭ মার্কিন ডলার। এ প্রস্তাবেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটিকে সুপারিশকৃত সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুটি প্রস্তাবের হিসাব অনুযায়ী, কাফকো থেকে সার কেনায় প্রতি টনের দাম সাবিকের প্রস্তাবের তুলনায় বেশি। তবে একটি প্রস্তাবে ব্যাগড সার এবং অন্যটিতে বাল্ক সার কেনার কথা বলা হয়েছে। তাই শুধু প্রতি টনের দাম তুলনা করে দুই প্রস্তাবের সামগ্রিক ব্যয়ের পার্থক্য বিচার করা যায় না।

এদিকে, একই দিনে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৪৩তম সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের উন্নয়ন প্রকল্পে নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

নথিতে প্রকল্পটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অব কোকিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ব্রাহ্মণবাড়িয়া’। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি প্রকল্পটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। তবে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়, অর্থায়নের উৎস, বাস্তবায়নের সময়সীমা, উৎপাদন সক্ষমতা কিংবা কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির যে প্রস্তাবটি তোলা হয়েছিল, সেটি ছিল ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক অ্যাসিড কেনার। আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এ আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বিষয়টি সভার আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ফলে ওই প্রস্তাবের বিষয়ে কমিটির অনুমোদনের সুপারিশ হয়নি।

সার আমদানির দুটি প্রস্তাব এবং টেক্সটাইল মিল উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব একই দিনে দুটি পৃথক মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়। সার কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে, আর কোকিল টেক্সটাইল মিলস প্রকল্পের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ২০, ২০২৬)