ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা, নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালেন পরিবারের সদস্যরা

২০২৬ অক্টোবর ২০ ১৩:২১:০০
ক্ষিতিশ মণ্ডল হত্যা, নিরাপত্তাহীনতার কথা জানালেন পরিবারের সদস্যরা

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানাধীন চণ্ডিপুর গ্রাম লাগোয়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেয়ালা পূর্বপাড়া। জেয়ালার লোকজনের ব্যবসা ডুমুরিয়ায়। আবার ডুমরিয়ার লোকজনের ব্যবসা জিয়ালায়। এমন এক ভৌগলিক অবস্থানের মধ্যে ১৬ অক্টোবর ক্ষিতিশ মণ্ডলকে নিজ ঘেরের বাসা থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিজের ঘরের বাসায় নিয়ে যান ডুমুরিয়া থানাধীন চণ্ডিপুরের আব্বাস শেখের ছেলে শেখ হাবিবুর রহমান।

পার্শ্ববর্তী কানা বিশ্বনাথ ঘোষের ঘের থেকে মাছ ধরে তার ঘেরে দিতে রাজী না হওয়ায় ক্ষিতিশকে চোর সাজাতে কানা বিশ্বনাথের ঘেরে ফেলে দেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে ডুব দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে নৌকার বৈঠা দিয়ে শেওলাযুক্ত ক্ষিতিশের মাথায় আঘাত করে ইব্রাহীম হোসেন ও সমর ঘোষ। সেখানে তাকে উপর্যুপরি নির্যাতনের পর , জেয়ালার গফ্ফার শেখ,নলতা নিকারী পাড়ার বেড়ে সাত্তার, জেয়ালার বিশ্ননাথ ঘোষ ও শিমুল ঘোষ, আটারুই এর মজিদ ঘের মালিক স্বদেশ ঘোষ ও ক্ষিতিশ ঘোষের পরামর্শে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মানে নিয়ে আম গাছের সাথে বেঁধে লোহার রড, হাতুড়ি ও ইট দিয়ে তার দুই পা, বুকের পাজড় ভেঙে চুরমার করা হয়। চেষ্টা করা হয় দুই চোখ উপড়ে ফেলার।

স্থানীয় কয়েকজন তাকে ছেড়ে দিতে বা পুলিশে সোপর্দ করার কথা বললে তাদেরকে হেঁকে বের করে দেওয়া হয়। সকল সহায় সম্বলের বিনিময়ে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েও নির্যাতনকারীদের করুণা হয়নি।

একপর্যায়ে যখন তারা নিশ্চিত হয় যে, ক্ষিতিশ আর বাঁচবে না তখন স্ত্রী সুলেখার কাছ থেকে জোরপূর্বক কয়েকটি অলিখিত নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়ে ক্ষিতিশকে ছেড়ে দেয়। দুপুর ১২টার দিকে ক্ষিতিশ তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যায়।

সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জিয়ালা পূর্বপাড়ায় গেলে বাম জাসদ নেতা প্রফেসর ইদ্রিস আলী, বাসদ নেতা নিত্যানন্দ সরকার, প্রকাশ সরকার ও সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই ক্ষিতিশ মণ্ডলের উপর বর্বোরিচত নির্যাতনের বর্ণনা দেন স্ত্রী সুলেখা মণ্ডল, দেবর সুকুমার মণ্ডল ও তার চাচাত দেবর প্রকাশ মণ্ডল।

প্রকাশ মণ্ডল ও সুলেখা মণ্ডল বলেন, ১৬ অক্টোবর ক্ষিতিশ মণ্ডলকে মব সৃষ্টি করে মারার রাতেই ১০ জনের নামে মামলা করেছেন। ঘটনা চারদিন অতিক্রান্ত। পুলিশ শুধু অভিযান করছে। কিন্তু কোন আসামী ধরা পড়ছে না। ফলে প্রভাবশালী আসামীরা বিশেষ করে চণ্ডিপুরের শেখ হাবিবুর, রবিউল, সমর ঘোষ ও ইব্রাহীম এজাহারভুক্ত আসামী হওয়ায় তারা মামলা তুলে নিতে হুমকি ধামকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে ছেলে উৎপল মণ্ডলতে খুঁজে পাওয়া যাবে না। করা হবে দেশছাড়া।

এজন্য তারা এসআরবি, সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার, তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দ্রুত আসামী গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা দাবি করেন।

জানতে চাইলে জেলা বাসদের সমন্বায়ক নিত্যানন্দ সরকার জানান, রাষ্ট্রের আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ক্ষিতিশ মণ্ডলকে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তারা ক্ষিতিশ মণ্ডলের হত্যাকারিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে সম্ভাব্য সকল জায়গায় কথা বলবেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা তালা থানার উপপরিদর্শক আমিরুজ্জামান মোল্লা জানান, তারা অভিযান অব্যহত রেখেছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

(আরকে/এএস/অক্টোবর ২০, ২০২৬)