প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
ধামরাইয়ের অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় এমপি ও ইউএনও
২০২৬ অক্টোবর ২১ ২০:৫৯:৪২
দীপত চন্দ্র পাল, ধামরাই : ঢাকার ধামরাইয়ের বালিয়া ইউনিয়নের দুনীগ্রামের দুই ছেলে ও ছেলের বউয়ের মৃত্যুর পর একমাত্র নাতিকে নিয়ে বিদ্যুৎহীন ভাঙ্গা ঘরে নিদারুণ কষ্টে থাকা হানেছ আলী (৮৯) ও সুফিয়া (৭৯) দম্পতির পাশে দাঁড়ালেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার একটি পত্রিকায় ‘অশীতিপর দম্পতির দিন কাটে খাবারের চিন্তায়’ শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশের পরই বুধবার স্থানীয় সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন ও ধামরাই উপজেলার ইউএনও মো. আল মামুন ওই অসহায় দম্পতির বাড়িতে ছুটে যান।
এসময় তাৎক্ষনিক মানবিক সহায়তা হিসেবে তাদের হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নগদ টাকা তুলে দেন এবং তাদের বেঁচে থাকা একমাত্র নাতি আশিকুর রহমানকে (২১) জীবিকার জন্য আজ বুধবার দুপুরে ধামরাই পৌর এলাকায় ডেকে নিয়ে তার হাতে তুলে দেন একটি অটো ভ্যানগাড়ি।
ইউএনও আল মামুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরই অসহায় পরিবারের বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। তাৎক্ষণিক ভাবে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে ওই অসহায় দম্পতির বাড়িতে ছুটে যাই এবং এক মাসের খাদ্যসামগ্রী (চাল,ডাল,তেল,লবন,মসলা) দেওয়া হয়। তাদের কষ্টের জীবন দেখে আমাদেরও কষ্ট লেগেছে। আমরা খুব শিগগির তাদের নতুন ঘর নির্মাণসহ বিদ্যুৎ ও টয়লেটের ব্যবস্থা করে দিবো। ভিক্ষুক পুর্ণবাসনের আওতায় আজ বুধবার বৃদ্ধ ওই দম্পতির একমাত্র অবলম্বন নাতি আশিকুর রহমানকে জীবিকার জন্য একটি নতুন অটো ভ্যানগাড়ি তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরবর্তীতে তাকে একটি চাকরি দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হবে বলেন।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে এ অসহায় দম্পতির পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, দায়িত্ব শুধু উন্নয়ন নয়, একটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের সুখে রাখাই আমাদের বড় অর্জন। এই অসহায় পরিবারটির জন্য আমরা সকল প্রকার সহায়তা করে যাবো।
স্থানীয় এমপি ও ইউএনওর হাত থেকে অটো ভ্যানগাড়ি পাওয়ার পর আশিকুর রহমান বলেন, চার বছর বয়সে আমার মা-বাবা মারা গেছেন। এরপর আমার বয়স্ক দাদা-দাদী আমাকে ভিক্ষা করে এইচএসসি পাশ করিয়েছেন। ভাঙ্গা ঘরে থাকি। নেই বিদ্যুৎ, নেই টয়লেট। অন্যের বাড়ির টয়লেট ব্যবহার করি। আমি রাজমিস্ত্রীর সহকারীর কাজ করে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। এখন আমার দাদা-দাদী চোখেও কম দেখেন। তারা এখন ভিক্ষা করতেও পারেনা। এমন সময় এমপি ও ইউএনও স্যার আমাদেরকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়ে অনেক উপকার করেছেন। আমি তাদের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি।
(ডিসিপি/এএস/অক্টোবর ২১, ২০২৬)
