ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » ফিচার » বিস্তারিত

শিশির ভেজা ভোরে শিউলির রূপমাধুরী

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৯:০৮:২৩
শিশির ভেজা ভোরে শিউলির রূপমাধুরী

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : প্রকৃতির রূপবদলের পালাক্রমে শরতের বিদায় ও হেমন্তের ছোঁয়ায় গ্রাম বাংলার প্রকৃতিতে এখন বইছে স্নিগ্ধ হাওয়া। এই ঋতুপরিবর্তনের সময়ে ভোরের নীরব সৌন্দর্য হয়ে চারপাশ মোহিত করে রাখে শিউলি ফুল। রাতের আঁধারে ফোটা সাদা পাপড়ির বুক চিরে উঁকি দেওয়া কমলা রঙের দীপ্ত আভা, সবুজ ঘাসের ডগায় ভোরের শিশিরবিন্দু আর মিষ্টি সুবাস-সব মিলিয়ে শিউলি ফুল বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতিতে নিয়ে আসে এক অনন্য মায়াবী রূপ।

মাগুরা জেলার গ্রামবাংলার আনাচে-কানাচে, বাড়ির আঙিনায় ও গ্রামীণ মেঠোপথের ধারে এখন শোভা পাচ্ছে শিউলি গাছ। বিশেষ করে মাগুরা সদর, শ্রীপুর, শালিখা ও মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে ভোরের আলো ফোটার আগেই চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শিউলির মনমাতানো সুবাস। গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকা থোকা ফুল ফোটার দৃশ্য আর ভোরের বাতাসে মৃদু দুলুনি প্রকৃতি প্রেমীদের মন কেড়ে নিচ্ছে।

স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ও প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিউলি ফুলের সৌন্দর্য সবচেয়ে মোহনীয় রূপ ধারণ করে ভোরের প্রথম আলোয়। রাতভর গাছে ফুটে থাকা ফুলগুলো যখন ভোরে ঝরে পড়ে, তখন সবুজ ঘাসের ওপর তৈরি হয় এক প্রাকৃতিক সাদা-কমলা রঙের কোমল গালিচা। হালকা কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় গাছের ডালপালা দুললে পাতার আড়াল থেকে ঝরে পড়া শিউলির সুরভিত রূপ মুগ্ধ করে পথচারীদেরও।

শহুরে যান্ত্রিকতার বাইরে শিউলি ফুল কেবল একটি উদ্ভিদ বা ফুল নয়; এটি বাঙালির আবহমানকালের আবেগ, নস্টালজিয়া ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। শারদীয় দুর্গোৎসবসহ বিভিন্ন গ্রামীণ পূজা-পার্বণে পূজার অর্ঘ্য সাজাতে শিউলির জুড়ি মেলা ভার। ঐতিহাসিকভাবে এ ফুলের কমলা রঙের বৃতি থেকে প্রাকৃতিক রং তৈরির প্রচলনও রয়েছে, যা লোকশিল্প ও ঐতিহ্যের স্মারক।

প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ রূপ ও সুবাস টিকিয়ে রাখতে নতুন প্রজন্মের অনেকের মাঝেই বাড়ির আঙিনায় শিউলি গাছ লাগানোর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, শিউলির স্নিগ্ধতা ও ঝরে পড়ার এই রূপ কেবল একটি ঋতুর সৌন্দর্য নয়, বরং এটি আবহমান বাংলার চিরায়ত প্রকৃতির গভীর অনুভূতির এক অনন্য প্রকাশ।

(বিএস/এসপি/অক্টোবর ২৬, ২০২৬)