ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » আইন আদালত » বিস্তারিত

যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রী-সন্তানকে হত্যা

স্বামী আব্দুর রউফকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ

২০২৬ অক্টোবর ২৬ ১৯:১১:৪৩
স্বামী আব্দুর রউফকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ

রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : যৌতুকের দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা ও একটি মটর সাইকেল না দেওয়ায় স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী আব্দুর রউফ সরদারকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে এক জনাকীর্ণ আদালতে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জাকারিয়া হোসেন এ আদেশ দেন।

আসামী আব্দুর রউফ সরদার (৪৭) সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। রায় প্রদানকালে আসামী আব্দুর রউফ সরদার আদালতের কাঠগোড়ায় ছিলেন না।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের জুলাই মাসে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে একই উপজেলার তারালী গ্রামের সরদারপাড়ার আনোয়ার হোসেন সরদারের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। ২০১৩ সালে আয়েশা ছিদ্দিকা নামে তাদের একটি মেয়ে হয়। বড় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে মটর সাইকেল দেওয়ায় ছোট জামাতা আব্দুর রউফ সরদারও ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বাপের বাড়ি থেকে একটি মটর সাইকেল ও নগদ ৫০ হাজার টাকা আনার জন্য স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনকে চাপ দেয়। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনতে অপারগতা প্রকাশ করায় পরদিন সাবিনা তার মেয়ে আয়েশা ছিদ্দিকাকে (২) বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর রউফ কয়েকদিন ধরে সন্ধ্যায় শ্বশুর বাড়িতে যেয়ে পরদিন সকালে বাড়িতে চলে আসতো। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ৮টার দিকে রউফ শ্বশুর বাড়িতে যায়। রাতে সে খাবার না খেলেও স্ত্রী, মেয়ে ও সে একটি ঘরে ঘুমোতে যায়। রাত ১২টা ১০ মিনিটে মা জাহানারা খাতুন ঘরের মধ্যে ঢুকে নিথর সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে উপর আয়েশার নিথর দেহ দেখতে পায়। এ সময় রউফ ঘরে ছিল না। মা ও মেয়েকে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের লোকজন জানতে পারে।

এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন তার মেয়ে ও নাতনিকে যৌতুকের দাবিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(ক) ধারায় জামাতা আব্দুর রউফের নাম উল্লেখ করে কালিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (জিআর-১৯৭/১৫ কালিঃ) দায়ের করেন। পুলিশ রউফকে ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বও রাতে গ্রেপ্তার করে। পরদিন আব্দুরর্ উফ মটর সাইকেল ও ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে ওড়না পেচিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে হত্যা করেছে মর্মে উল্লেখ করে বিচারিক হাকিম মোরশেদুল আলমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। ২০২০ সালের ৩০ জুলাই আব্দুর রউফ জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যায়। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক অমল কুমার রায় ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর এজাহারভুক্ত আব্দুর রউফের নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলার নথি ও ১২ জন সাক্ষীর জেরা ও জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামী আব্দুর রউফকে সন্দেহাতীতভাবে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারক মোঃ জাকারিয়া হোসেন তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যদণ্ড কার্যকর ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন।

অসামীপক্ষে প্রথমে আইনজীবী ছিলেন এসএম হায়দার আলী। পরবর্তীতে আসামী পলাতক থাকায় স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে নাদিয়া পারভিন দায়িত্ব পালন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাড. আলমগীর আশরাফ। তিনি বলেন, আসামী আব্দুর রউফ পলাতক রয়েছে। এ রায় একটি যুগান্তকারি রায়।

(আরকে/এসপি/অক্টোবর ২৬, ২০২৬)