ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

শ্রীনগরে বসতবাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে হামলা, নারীসহ আহত ২    

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৮:৩৮:০৯
শ্রীনগরে বসতবাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে হামলা, নারীসহ আহত ২    

শ্রীনগর প্রতিনিধি : শ্রীনগর উপজেলার তন্তর ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামে একটি বসতবাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলার ঘটনায় এক নারীসহ দুজন আহত হয়েছে। ওই গ্রামের মোল্লাবাড়িতে হামলার ঘটনায় মরহুম হাছেন মোল্লার ছেলে মজিবর মোল্লা (৫০) ও তার স্ত্রী আসমা বেগম (৪৫) আহত হন। স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।

অভিযোগ উঠেছে, প্রতিপক্ষ আমির হোসেন বেপারীর ছোট ছেলে নাঈম বেপারী পুলিশ কনস্টেবল হওয়ার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে মজিবর মোল্লার বাড়ির সীমানা অতিক্রম করে ইটের দেয়াল নির্মাণ শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ অক্টোবর সকালে নির্মাণাধীন দেয়ালের বিষয়ে কথা উঠলে পুলিশ কনস্টেবল নাঈম উপস্থিত থেকে প্রতিপক্ষ মজিবর মোল্লাকে মারধর করেন।

সরেজমিনে গিয়েও হামলার বিষয়ে সত্যতা পাওয়া যায়। দেখা গেছে, মজিবর মোল্লাগং ও আমির হোসেন বেপারীগং প্রতিবেশী। মজিবরের বসতবাড়ির দক্ষিণদিকে দৃশ্যমান সীমানার কিছু অংশ দখল করে আমির হোসেন বেপরীগং ইটের দেয়াল নির্মাণ করছিল। উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে গত ২০ অক্টোবর সকালের দিকে আমির হোসেন বেপারীর ছেলে পুলিশ কনেস্টবল নাঈম বাড়িয়ে এসে প্রতিপক্ষদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি শুরুর এক পর্যায় মারধর করেন। পরে নিজেরাই সীমানা থেকে নির্মিত অতিরিক্ত দেয়াল ভেঙ্গে নেয়।

মজিবর মোল্লা বলেন, আমির হোসেন সম্পর্কে তাদের আত্মীয় ও প্রতিবেশী। অথচ তার ছোট ছেলে পুলিশ হওয়ায় আমাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সীমানা দখলের পাঁয়তার করে আসছে। দেয়াল নির্মাণকাজে বাঁধা দিলে সে বাড়িতে এসে আমাদের মারধর করে। পরে শ্রীনগর থানা পুলিশ আনে। পরে আমিও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

আহম্মদ মোল্লা, জহিরুল ইসলাম মল্লিকসহ প্রতিবেশীরা বলেন, এ বিষয়ে সামাজিকভাবে মিমাংসার জন্য কয়েক মাস আগে বসা হয়েছিল। কিন্তু আমির হোসেন বেপারীর ছেলেরা কোন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হননি। বরং তার বাড়ির পশ্চিম দিকে সরকারি খাল দখল করে আরসিসি পিলার ও ফ্লোর তৈরি করে তার ওপর বড়আকারের ঘর নির্মাণ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমির হোসেন বেপারী দাবী করে বলেন, তারাই আমার ওপর আগে হামলা করেছে। এঘটনায় তিনিও থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সীমানা দখলের বিষয়ে তিনি বলেন, অতিরিক্ত দেয়ালের অংশটুকু সরিয়ে নিয়েছি। সরকারি খালের অংশ দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন, খালের ওপর দৃশ্যমান খুঁটি পর্যন্ত তার বাড়ির জায়গা।

পুলিশ কনেস্টবল মো. নাঈম বেপারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন, মারামারির ওইদিন আমি বাড়িতেই ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। তার কিছুক্ষণ পর নাঈম ফোন করে জানান তিনি বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন জানান, হামলার খবর পেয়ে ওই বাড়িতে যাই। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে মিমাংসার বিষয়ে কথা বলি। তবে আমির হোসেন বেপারীগং মিমাংসায় বসতে রাজি নন।

শ্রীনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখছি।

(এম/এসপি/অক্টোবর ২৭, ২০২৬)