ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

পদ্মা সেতু সংলগ্ন নদীতে তিন বছরে ৪ দুর্ঘটনা

পদ্মায় নিখোঁজ ২ পর্যটকের একজনের লাশ উদ্ধার 

২০২৬ অক্টোবর ২৭ ১৮:৫২:২১
পদ্মায় নিখোঁজ ২ পর্যটকের একজনের লাশ উদ্ধার 

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর ৪ নং পিলারের কাছে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ দুই পর্যটকের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নৌ পুলিশ ভাসমান অবস্থায় রাসেলের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনা স্থলের খুব কাছেই লাশটি ভেসে ওঠে। রাসেল (২২) নামের ওই ব্যক্তিটি অফিসের পিয়ন বলে জানা গেছে।

এছাড়া মারুফের সন্ধানে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোষ গার্ড। এর পূর্বে সোমবার দুপুরে ঢাকার খিলগাঁও থেকে অফিস ট্যুরে আসা আট ব্যক্তি পদ্মা সেতুর ৪ নং পিলার এর কাছে ডুবু চড়ে গোসল করতে নামে। এ সময় নিখোঁজ হন রাসেল ও মারুফ নামে দুই ব্যক্তি।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু-সংলগ্ন নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ও প্রাণহানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এসব দুর্ঘটনায় নদীতে গোসল ও নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৬
সালের ৩১ জানয়ারি মাওয়া এলাকায় পদ্মা সেতর ৪ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী আবু নাঈম। দুই দিন পর ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের ২ জুন পদ্মা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী সৌম্য দাস ও নরুল হক নাফিউ। পরে তাদেরর দুজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পদ্মা সেতুর ৩ নম্বর পিলারের কাছে ট্রলারডুবির ঘটনায় লক্ষণ মনি দাস (৫৭) নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ সোমবার (২৬ অক্টোবর) পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে রাসেল (৪০) ও মারুফ(২২) নামে দু ই ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তাঁদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সোমবার বিকেলে অভিযান শুরু করে। পরে সন্ধ্যা ফোনের সাতটায় আলো স্বল্পতার কারণে অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আজ সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ডুবুরী দল আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।

একের পর এক এসব ঘটনায় মাওয়া ও পদ্মা সেতু-সংলগ্ন এলাকায় নদীতে গোসলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নদীর গভীরতা, প্রবল স্রোত ও পানির নিচের পরিস্থিতি সম্পর্কে অসচেতনতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসল নিরুৎসাহিত করা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কার্যকর নজরদারি ও দর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা কমানো সম্ভব হতে পারে।

(এমকে/এসপি/অক্টোবর ২৭, ২০২৬)