প্রচ্ছদ » অর্থ ও বাণিজ্য » বিস্তারিত
ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, নাকচ করল সরকার
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ০১:১২:২৮
স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন রমজানের আগে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৯ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গত ১৩ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়।
তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১৮ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৮০ টাকা থেকে ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল, ডিম, ডাল, ছোলা, খেজুর ও চিনিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় ভোজ্যতেলের দাম সমন্বয়ের বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। তবে মন্ত্রী এ মুহূর্তে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি দেননি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো চিঠিতে মিল মালিকদের সংগঠনটি বলেছে, গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে।
বর্তমানে প্রতি মেট্রিক টন ভোজ্যতেলের দাম ১ হাজার ৩২৫ ডলারে পৌঁছেছে। এই দরের ভিত্তিতে হিসাব করলে প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৩৩ টাকা।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল, পরিবহন ও বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ভোজ্যতেল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ব্যয় বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে দাম সমন্বয় করা না হলে ভবিষ্যতে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এতে আসন্ন রমজানে বাজার পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংগঠনটির নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম মোল্লার সই করা চিঠিতে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ের সময় সরকার অল্প সময়ের মধ্যে আবার দাম সমন্বয়ের আশ্বাস দিয়েছিল। সেই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে এবং সরকারের অনুরোধে লোকসান সত্ত্বেও বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বরের মূল্য সমন্বয়ে প্রতিলিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৯ টাকা থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।
আমদানি ও এলসি বেড়েছে
এদিকে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি ও আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন।
একই সময়ে ভোজ্যতেল আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ লাখ ৩১ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
এছাড়া সয়াবিন বীজ আমদানি হয়েছে ৫ লাখ ১ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ আমদানি বেড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন।
আমদানি ও এলসি খোলার পরিমাণ বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয়ের যুক্তি দেখিয়ে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে রমজানের আগে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দেয়নি সরকার।
(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৮, ২০২৬)
