ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

পদ্মায় নিখোঁজ ২ পর্যটকের একজনের লাশ উদ্ধার

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৭:২৫:০২
পদ্মায় নিখোঁজ ২ পর্যটকের একজনের লাশ উদ্ধার

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া প্রান্তের পদ্মা সেতুর ৪ নং পিলারের কাছে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ দুই পর্যটকের একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে নৌ পুলিশ ভাসমান অবস্থায় রাসেলের লাশ উদ্ধার করে। ঘটনা স্থলের খুব কাছেই লাশটি ভেসে ওঠে। রাসেল (২২) নামের ওই ব্যক্তিটি অফিসের পিয়ন বলে জানিয়েছে মাওয়া নৌ পুলিম ফাড়ির আইসি মামুন খসরু।

এছাড়া অপর পর্যটক মারুফের সন্ধানে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তার কোন সন্ধান মেলেনি। মঙ্গলবারের মত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে আবারও মারুফের সন্ধানে পদ্মা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করবে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

এর পূর্বে সোমবার দুপুরে ঢাকার খিলগাঁও থেকে অফিস ট্যুরে আসা আট ব্যক্তি পদ্মা সেতুর ৪ নং পিলার এর কাছে ডুবু চড়ে গোসল করতে নামে। এ সময় নিখোঁজ হন রাসেল (২২) ও মারুফ(৪০) নামে দুই ব্যক্তি।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু সংলগ্ন নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ ও প্রাণহানির একাধিক ঘটনা ঘটেছে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের। এসব দুর্ঘটনায় নদীতে গোসল ও নৌযান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের ৩১ জানুয়ারি মাওয়া এলাকায় পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী আবু নাঈম। দুই দিন পর ২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে ২০২৩ সালের ২ জুন পদ্মা সেতুর ১৬ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির দুই শিক্ষার্থী সৌম্য দাস ও নরুল হক নাফিউ। পরে তাদেরর দুজনেরই মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট পদ্মা সেতুর ৩ নম্বর পিলারের কাছে ট্রলার ডুবির ঘটনায় লক্ষণ মনি দাস (৫৭) নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ সোমবার (২৬ অক্টোবর) পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারের কাছে গোসল করতে নেমে রাসেল ও মারুফ নামে দুই ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তাঁদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সোমবার বিকেলে অভিযান শুরু করে। পরে সন্ধ্যা পোনের সাতটায় আলো স্বল্পতার কারণে অভিযান স্থগিত ঘোষণা করা হয়। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। দুপুরের দিকে নিখোঁজ রাসেলের লাশ ঘটনা স্থলের অতি কাছে থেকে উদ্দার করা হয়।

একের পর এক এসব ঘটনায় মাওয়া ও পদ্মা সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদীতে গোসলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নদীর গভীরতা, প্রবল স্রোত ও পানির নিচের পরিস্থিতি সম্পর্কে অসচেতনতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে গোসল নিরুৎসাহিত করা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কার্যকর নজরদারি ও দর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের অনাকাক্ষিত ঘটনা কমানো সম্ভব হতে পারে।

এ ব্যাপারে লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু জানিয়েছেন, জায়গাটিতে পূর্বেও সতর্কতা মূলক সাইনবোর্ড দেয়া ছিল। কিন্ত উৎসক লোকজন তা মানেন না। তবে আমরা আবারও আরও বড় করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়ে পর্যটকদের সতর্ক করবো।

(এমকে/এসপি/অক্টোবর ২৮, ২০২৬)