ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠছে আজ, বৈরী আবহাওয়া সাগরযাত্রায় বাঁধা

২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৯:০৯:৫৩
ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা উঠছে আজ, বৈরী আবহাওয়া সাগরযাত্রায় বাঁধা

বাগেরহাট প্রতিনিধি : ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমের দেয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠছ আজ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ১২ টার পর থেকেই সমুদ্রের উদ্দেশে যাত্রা করবে জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও সেই যাত্রাপথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করছে সাগরে। উত্তাল রয়েছে বঙ্গোপসাগর। ফলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণকারী জেলেরা প্রথম দিনে যেতে পারছেন না। এছাড়াও জেলে মহাজনদের মধ্যে রয়েছে বন ও জলদস্যু আতঙ্ক। মাথায় রয়েছে লাখ লাখ টাকার ঋণের বোঝা। এতো প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নতুন করে ঋণ নিয়ে তাদের সাগরে ট্রলার পাঠাতে হচ্ছে। এদিকে মহাজন ও ট্রলার মালিকরা নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তাদের জাল-ট্রলার মেরামত করে সমুদ্রে যাওয়ার উপযোগি করেছেন। জেলেরাও অবসর কাটিয়ে মহাজনের আড়তে এসে উপস্থিত হয়েছেন। তবে বৈরী আবহাওয়া প্রথম দিনে সাগরে না গেলেও যাওয়ার জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন জেলে- মহাজনরা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপকূলীয় বাগেরহাটের শরণখোলাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য আড়ৎ, জেলে পাড়া ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাট এলাকা ঘুরে সাগরযাত্রার প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেছে।

শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা শেষ মুহুর্তে এসে ব্যস্ত সময় পার করছেন জাল ও ফিশিং ট্রলার মেরামতে। ঘাটে নোঙর করা অর্ধশতাধিক ট্রলার। এসব ট্রলারে জেলেরা কেউ জাল তুলছেন, কেউ কেউ তুলছেন খাদ্যসামগ্রি ও অন্যান্য মালামাল। অন্যদিকে বরফ কলগুলোতেও ব্যস্ততা বেড়েছে শ্রমিকদের। আস্ত বরফ খন্ড ভেঙে সেগুলো টুকরো করে তুলছেন ফিশিং ট্রলারে।
জেলেদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞার সময় তারা জাল-ফিশিং ট্রলার মেরামত কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এখন অপেক্ষা করছেম আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার। কারণ উত্তাল সাগরে ট্রলার নিয়ে বের হওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ঘাটেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

মৎস্য আড়ৎদার মো. কবির হাওলাদার জানান, এবছর সকল মৎস্য ব্যবসায়ীই কমবেশী লোকসানে রয়েছেন। আমার ৮টি ফিশিং ট্রলারে কোটি টাকার ওপরে বিনিয়োগ করা। গত মৌসুমে এসব ট্রলারে আহরিত ৪ কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এবার বিক্রি হয়েছে মাত্র এক কোটি টাকা। বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে এই বিশাল অংকের টাকা বিনিয়োগ করে এখন ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।

ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রথম দিনে সাগরে কোনো ট্রলার যেতে পারছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে নভেম্বরের শুরু থেকে সাগরে যাওয়া শুরু করবে উপকূলের সব ফিশিং ট্রলাগুলো। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি শেষ করে রাখা হচ্ছে।

শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে সাগরে যাওয়া যাচ্ছে না জেলেদের। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মাছ ধরা শুরু হবে। লাখ লাখ টাকা লোকসানে পড়ে সব মৎস্য ব্যবসায়ী ঋণগ্রস্থ। তারওপর সাগরে দস্যুুদের ভয়। তাই দস্যুদমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

শরণখোলা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতেই ইলিশ আহরণে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। এর পর সাগরে জাল ফেললে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়বে জেলেদের জালে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিন সাগরে যাওয়া নিয়ে কিছুটা সংকটে পড়েছেন জেলেরা। সাগরে নির্বিঘেœ মাছ ধরার জন্য বন ও জলদস্যু নির্মুলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

(এস/এসপি/অক্টোবর ২৮, ২০২৬)