প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
লৌহজংয়ের ইউএনওর শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতুর নীচের ঝুকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন
২০২৬ অক্টোবর ২৮ ১৯:১২:১৪মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তের শিমুলিয়া ঘাট এবং পদ্মা সেতুর ৪ নম্বর পিলারসহ ৩ ও ৫ নম্বর পিলার এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এসব এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে মাওয়া প্রান্তের শিমুলিয়া ঘাটের সার্বিক পরিস্থিতি এবং পদ্মা সেতুর সংশ্লিষ্ট পিলার এলাকার বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয়। নদীপথের নিরাপত্তা, ঘাট এলাকার শৃঙ্খলা এবং পর্যটক ও সাধারণ মানুষের চলাচল-সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সরজমিনে ঘুরে দেখলাম, পদ্মার স্বচ্ছ জলধারা আর পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য দেখতে প্রকৃতির টানে পর্যটকরা এখানে চলে আসে। যারা শহরে থাকেন বা অনেক দিন পানিতে নেমে গোসল করেননা, তারা পদ্মা নদীর এই স্বচ্ছ পানি দেখে নিজেদের ধরে রাখতে পারেন না। উচ্ছাসে তারা পদ্মায় ঝাপিয়ে পড়েন। কিন্তু পানির নীচে যে বিপদ লুকিয়ে আছে তা তারা বুঝেতে পারেন না বা বোঝে উঠে না। পদ্মার অসংখ্য ডুবো চরে চোরা বালু রয়েছে। এই চোরা বালুতে আটকে অনেকের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। আমরা পদ্মা সেতুর ওই এলাকায় ইতিপূর্বে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দিয়েছি। তারপরেও পর্যটকরা ওই এলাকায় এসে পদ্মায় নেমে পরে। এটি বিপদজনক। আজ আবারও পর্যবেক্ষ করে দেখলাম। আমরা আরও কিছু সাইনবোর্ড ওই সমস্ত এলাকায় বড় করে টাঙ্গিয়ে দিয়ে জনগনকে সতর্ক করবো। পদ্মা সেতুর কাছের ওই চরগুলোতে জেনো কেউ না যায়। এছাড়া মাইকিং ও চুরিস্ট পুলিশের টহল শিমুলিয়া ঘাটে বৃদ্ধি করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ বছরে এখানে ৪টি দুঘটনা ঘটে। সর্ব শেষ গত সোমবার পদ্মা সেতুর ৪ নং পিলারের কাছে নদীতে ৮ পর্যটক গোসল করতে নেমে ২ জন নিখোঁজ হন। মঙ্গল ও বুধবার তাদের লাশ উদ্ধার করে উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশের কর্মীরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লৌহজং উপজেলা প্রকৌশলী শান্তানু ঘোষ সাগর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) শিমুয়িা বন্ধর কর্মকর্তা নেয়াজ মোহাম্মদ খান, নৌ-পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. মালেক খসরু, ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. দেলোয়ার হোসেন, শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার মো. কাওছারসহ উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
(এমকে/এসপি/অক্টোবর ২৮, ২০২৬)
