প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত
‘হরমুজ প্রণালি খুলতে আলোচনা চলছে’
২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৪:১০:৪৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধ ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালি আবারো খুলে দিতে একটি ‘সাত দিনের পরিকল্পনা’ নিয়ে তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্ট তিনি এই তথ্য জানান।
আব্বাস আরাঘচি লিখেন, “আমাদের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী মাতৃভূমি রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও, ইরান কূটনীতিকে সফর হওয়ার আরেকটি সুযোগ দিচ্ছে। আমাদের সাত দিনের পরিকল্পনা অল্প সময়ের বাস্তবায়নের পথ তৈরি করতে পারে- এমন সব ধারণা ও প্রস্তাব পর্যালোচনা করতে আমরা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখছি।”
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলার হুমকি মুখে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসে কাতার সরকারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি সাত দিনের পরিকল্পনা প্রস্তাব দেয় ইরান। সেসময় আরাঘচি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতিসহ ‘প্রয়োজনীয় শর্তগুলো’ পূরণ সাপেক্ষে এই পরিকল্পনার আওতায় সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
ইরানের শর্তের মধ্যে রয়েছে- জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করা, তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বর মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়া রোধ করতে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ফের চালুর জন্য কাতারের নেতৃত্বে আঞ্চালিক মধ্যস্থতাকারীরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। মার্কিন, ইসরায়েলি ও অন্যান্য আঞ্চলিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে ইরানের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শনের জন্য জাতিসংঘ পরিদর্শকদের অনুমতি দিতে তেহরানকে রাজি করানোর চেষ্টা করছে কাতার।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরান সফর করেছে। এই সফরে আলোচনা ও পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন, হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কথা হয়।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়ে আসছে ইরান। অনুমতি ছাড়া এই পথ পার হওয়ার চেষ্টাকারী জাহাজগুলোকে তারা নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে পাল্টা নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। গত জুনে স্থায়ী সমাধানে পথে এগোনোর একটি চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই এই সংকট নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা মূলত স্থবির হয়ে রয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য স্টার
(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৯, ২০২৬)
