ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

‘এক বছরের মধ্যে ঢাকায় মাঠের খরা অনেকটাই কাটবে’

২০২৬ অক্টোবর ২৯ ১৪:২৮:০৮
‘এক বছরের মধ্যে ঢাকায় মাঠের খরা অনেকটাই কাটবে’

স্পোর্টস ডেস্ক : আগামী এক বছরের মধ্যে ঢাকার খেলার মাঠের সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।



বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি জানান, ঢাকাসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় খালি জায়গা চিহ্নিত করে সেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে খেলার উপযোগী মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গতকালকেও আমরা আমাদের গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী, আমাদের ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্তু নির্দেশনা দিয়েছেন যে আমাদের ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ফুটসাল গ্রাউন্ড করার জন্য।

’আমিনুল হক বলেন, ফুটসাল গ্রাউন্ড তৈরির জন্য ইতিমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব মাঠ তৈরি করা হবে। ঢাকা সিটি করপোরেশনের যেসব জায়গা খালি পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো সংস্কার করে খেলার উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, অনেক জায়গায় মাঠ দখল হয়ে আছে। গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। উত্তরা তৃতীয় পর্বে ২৭টির বেশি মাঠ রয়েছে। বিভিন্ন ব্লকে থাকা এসব মাঠ এবং পূর্বাচলের মাঠের জায়গা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাকে একটু সময় দিন, আমি বলছি একদম আগামী এক বছরের ভেতরে, ট্রাস্ট মি, আপনারা ঢাকা শহরের যে মাঠের যে খরা, সেটা অনেকটাই আমরা কাটিয়ে উঠতে পারবো।’

তিনি বলেন, খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুধু যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় নয়, স্থানীয় সরকার, গৃহায়ন, ভূমি, পানিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করছে।

বিভিন্ন আবাসন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে মাঠের জন্য জায়গা রয়েছে, সেগুলো বুঝে নিয়ে বেড়া দেওয়া ও সংস্কারের মাধ্যমে খেলার উপযোগী করা হবে। এসব মাঠ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে, যাতে এলাকার শিশুসহ সবাই খেলাধুলার সুযোগ পায়।

আবাসন প্রকল্পে খেলার মাঠ দেখিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রির পর সেই জায়গায় ভবন নির্মাণের অভিযোগের বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সংশ্লিষ্ট সদস্য এবং প্রধান স্থপতিসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা ফ্ল্যাট বিক্রির সময় খেলার মাঠ দেখালেও পরে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। এসব জায়গা চিহ্নিত করতে গৃহায়ন প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আমিনুল হক বলেন, ‘এগুলো কোথায় কোথায় আছে, আইডেন্টিফিকেশন করে দেন, আমরা এটাকে দখলমুক্ত করার চেষ্টা করবো।’আশরাফুলকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রীওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর মাত্র দুইদিন আগে ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রিকেট বোর্ড, ফুটবল ফেডারেশনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে চায় সরকার।তিনি বলেন, ‘আমরা যে স্বাধীনতাটা দিতে চাই, যেমন আমাদের ক্রিকেট বোর্ড, ফুটবল ফেডারেশন, অন্যান্য ফেডারেশন, আমরা চাই যে তারা তাদের স্বাধীনভাবে তাদের যে চিন্তাভাবনা, তাদের যে স্ট্র্যাটেজি রয়েছে, সেগুলো নিয়ে তারা কাজ করুক।’

আশরাফুলকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তো সেই ক্ষেত্রে আশরাফুল হয়তোবা বাদ পড়েছে, আবার পরবর্তীতে হয়তোবা আশরাফুল আবার অন্তর্ভুক্ত হতেও পারে।’প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, তিনি এই স্বাধীনতাকে প্রাধান্য দেন।

নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি ও টিকিটের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল হক বলেন, এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার একটি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনার পর টিকিটের দাম নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) টিকিট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং সাফের সংশ্লিষ্ট কমিটি বিষয়টি পরিচালনা করছে। টিকিটের দাম বেশি নির্ধারণের বিষয়ে তিনি নিজেও শুনেছেন।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সো এটি আলোচনা করে তারপরে এটাকে আরও কোনো কিছু করা যায় কি না সেটা আমরা হয়তোবা পরবর্তীতে জানাতে পারবো আপনাদের।’

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে ২০০৩ সালের সাফজয়ী বাংলাদেশ দলের সাবেক এই ফুটবলার বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের বহুমুখী আকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশিত যে সাফ আমাদের যে শুরু হতে যাচ্ছে নভেম্বরের এবং আমরা সবাই আশা করছি যে বাংলাদেশ টিম আবারও তার সগর্বে ফিরে এসে ইনশাআল্লাহ দীর্ঘদিনের যে শিরোপার যে খরা, সেটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্মৃতি এখনো তার মনে আছে। এবারও বাংলাদেশ দল শিরোপা জিতে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে বলে আশা করছেন তিনি।

(ওএস/এএস/অক্টোবর ২৯, ২০২৬)