প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত
‘রান ৪৫০-৫০০ হতে পারত’
২০২৬ অক্টোবর ৩০ ১৪:২৯:২০
স্পোর্টস ডেস্ক : দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাদমান ইসলাম। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনের পরও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনার। তার আক্ষেপ, সেঞ্চুরির পর ইনিংসটা আরও বড় করতে পারলে বাংলাদেশের সংগ্রহ হতে পারত ৪৫০ কিংবা ৫০০ রান। মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১০৫ রানে থামার পর দলের দ্রুত উইকেট হারানো নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ২৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। প্রথম দিন ৯৯ রানে অপরাজিত থাকা সাদমান দ্বিতীয় দিনের শুরুতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। তবে ১০৫ রানেই তার ইনিংস থামিয়ে দেন অভিষিক্ত পেসার জশুয়া বিশপ। এরপর দ্রুত উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা নষ্ট করে স্বাগতিকরা।
দিনের খেলা শেষে নিজের ইনিংস ও দলের ব্যাটিং নিয়ে আক্ষেপের কথা জানান সাদমান। তার মতে, টপ অর্ডারের ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে পারলে দলের স্কোরে বড় পার্থক্য গড়ে দেওয়া সম্ভব ছিল।
সাদমান বলেন, অবশ্যই, এখানে আমাদের আরও ভালো করা উচিত ছিল। আমরা যদি টপ অর্ডারে রানটা ১৫০, ১৭০ কিংবা ২০০ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারতাম, তাহলে হয়তো দলের রান ৪৫০ বা ৫০০-তে গিয়ে থামত। আমাদের ভুল হয়ে গেছে। চেষ্টা থাকবে, ইনশাআল্লাহ, পরবর্তী সময়ে এমন পরিস্থিতি এলে যতটা সম্ভব বড় ইনিংস খেলার।
সেঞ্চুরির পর দ্রুত আউট হওয়ায় আক্ষেপ নিয়ে সাদমান বলেন, উইকেটের চেয়ে ব্যাটারদের ভুল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভালো বোলিংই বাংলাদেশের ধসের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
হৃদয়ের আউট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হৃদয় যে বলে আউট হয়েছে, আমার কাছে মনে হয়েছে সেটি মারার মতো বল ছিল। হৃদয় এ ধরনের শট খেলে এবং রানও করে। আমার কাছে মনে হয় না উইকেটের কারণে এমন হয়েছে। ওরা ভালো বোলিং করেছে, আমাদেরও কিছু ভুল ছিল। আমি আর লিটন যদি একটা পার্টনারশিপ গড়তে পারতাম, তাহলে হয়তো পরিস্থিতি অন্য রকম হতো।
গত কয়েক বছরে নিয়মিত রান করলেও ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে না পারার সমস্যা ভুগিয়েছে সাদমানকে। ৭০ রানের ঘর পেরিয়েও একাধিকবার বড় ইনিংস খেলতে না পারার আক্ষেপ ছিল তার। এবার সেই বাধা পেরিয়ে তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন তিনি।
নিজের ব্যাটিংয়ের এই দিকটি নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়ে সাদমান বলেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমি সবসময় চিন্তা করতাম, কেন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে আউট হয়ে যাচ্ছি। গত কিছুদিন এটা নিয়ে অনেক কাজ করেছি। আমার মনে হয়েছিল, ফিটনেসের সমস্যা হতে পারে। তাই ফিটনেস নিয়ে ভালো কাজ করেছি। ব্যাটিংয়ে যেসব ঘাটতি ছিল, সেগুলো নিয়েও কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। আশরাফুল ভাই ও সালাউদ্দিন স্যারও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। আশা করছি, সামনে এর ভালো ফল পাব।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া সেঞ্চুরিকে তাই নিজের উন্নতির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন এই ওপেনার। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি দলের জন্য বড় ইনিংস খেলার ধারাবাহিকতাও ধরে রাখতে চান তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনারদের দায়িত্ব শুধু রান করা নয়, নতুন বলের চ্যালেঞ্জ সামলে পরের ব্যাটারদের জন্য ভিত গড়ে দেওয়া। সাদমানের মতে, শুরুতে প্রতিপক্ষের বোলারদের ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারলে দলের পরের ব্যাটারদের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, অবশ্যই, ওপেনার হিসেবে আমরা যদি নতুন বলটা ভালোভাবে সামলাতে পারি, তাহলে নিচের ব্যাটারদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ তো নিতেই হবে। সামনে যত ম্যাচ আছে, চেষ্টা থাকবে ভালো ওপেনিং পার্টনারশিপ গড়ে তোলার। বিশেষ করে তামিম ভাইয়ের সঙ্গে আমরা কথা বলি, কীভাবে ওপেনিংয়ে জুটি গড়ে রানটা এগিয়ে নেওয়া যায়।
প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান নিয়ে সন্তুষ্ট নন সাদমান। তবে বাংলাদেশের বোলাররা ভালো জায়গায় বল করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্রুত অলআউট করার সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
সাদমানের ভাষায়, যত বেশি লিড নেওয়া যায়, ততই আমাদের জন্য ভালো। বোলিং যেভাবে হচ্ছে, কাল সকালে উইকেট বুঝে ভালো বল করতে পারলে ইনশাআল্লাহ দ্রুত অলআউট করার চেষ্টা থাকবে।
মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সাদমানের ১০৫ ও তাওহীদ হৃদয়ের ৪২ রানের পর আর কেউ বড় অবদান রাখতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান ৫৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নামান। জশুয়া বিশপ ও শামার জোসেফ নেন দুটি করে উইকেট।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আত্মবিশ্বাসী শুরু করে। ফলে এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে বাংলাদেশের বোলারদের ওপরই এখন বড় দায়িত্ব।
(ওএস/এএস/অক্টোবর ৩০, ২০২৬)
