ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

দুর্নীতি, মাদক ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে এমপি হারুন-অর-রশিদ

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৪:১১:২০
দুর্নীতি, মাদক ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে এমপি হারুন-অর-রশিদ

এ,কে, আজাদ রাজবাড়ী : দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ হারুন-অর-রশিদ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বিশেষ করে নদী ও পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সরকারি সম্পদ লুটপাটের মতো কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন মোঃ হারুন-অর-রশিদ। পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী-২ আসনের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, অন্যায়, দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি অপরাধের সঙ্গে নিজের ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত থাকলেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পক্ষে তিনি অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, আইনের চোখে সবাই সমান এবং অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না।

নির্বাচনের আগে ঘোষিত ১২ দফা নির্বাচনী ইশতেহারেও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেন তিনি। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাজবাড়ী জেলার নদ-নদী ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও তাঁর নির্বাচনী এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। বিশেষ করে গড়াই নদীসহ বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রির কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, তীরবর্তী জনবসতি এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি পাংশার কসবামাজাইল এলাকায় গড়াই নদী সংস্কারের সময় উত্তোলিত বালু অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাঁর নাম ব্যবহার করে বালু বিক্রির দাবি সামনে এলে সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ বিষয়টি অস্বীকার করেন। পাশাপাশি পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনা নদী ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।

নির্বাচনের আগে ঘোষিত তাঁর ১২ দফা ইশতেহারে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন তিনি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এবং দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই জোন স্থাপন এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের কথা তাঁর ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেকার যুবক ও নারীদের সহজ শর্তে ঋণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা, নারীদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি।

এ ছাড়া খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও হারুন-অর-রশিদের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তাঁকে রাজবাড়ী-২ আসনে মনোনয়ন দেয়।

নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সংসদীয় দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হন।

এই দায়িত্বের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের নীতিগত বিষয় নিয়ে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার যোগাযোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগও রয়েছে।

রাজবাড়ী-২ আসনের মানুষের প্রত্যাশা, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ঘোষিত অবস্থান বাস্তবে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

বিশেষ করে পদ্মা ও গড়াই নদীবিধৌত এই অঞ্চলের নদীভাঙন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আধুনিক চিকিৎসাসেবা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য কর্মমুখী সুযোগ সৃষ্টি এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে দায়িত্ব এবং নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।

সব মিলিয়ে রাজবাড়ী-২ আসনের জনগণের প্রত্যাশা—দলমত-নির্বিশেষে সবার জন্য সমান নাগরিক সেবা, অপরাধ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ এবং পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দিকে পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য হারুন-অর-রশিদ কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

(একে/এএস/অক্টোবর ৩১, ২০২৬)