ঢাকা, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

ঈশ্বরদীতে এইচএসসির ফলে ধস, ৮ কলেজের ৭ টিতেই পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে

২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:৩২:০০
ঈশ্বরদীতে এইচএসসির ফলে ধস, ৮ কলেজের ৭ টিতেই পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনার ঈশ্বরদীতে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে অধিকাংশ কলেজে বিপর্যয় ঘটেছে। উপজেলার আটটি কলেজের মধ্যে সাতটিতেই পাসের হার ৩০ শতাংশের নিচে। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।কলেজগুলোর এমন নিম্নমুখী ফলাফলে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে হতাশা দেখা দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবহেলা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং শিক্ষকদের একাংশের প্রাইভেট বাণিজ্যকে এ ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদীর আটটি কলেজের কোনোটিতেই আশানুরূপ ফল হয়নি। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে পাসের হার যেমন কমেছে, তেমনি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও নেমে এসেছে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে।

ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ৯৯২ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে পাস করেছে ৬০৪ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৮৮ জন। পাসের হার ৬২ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন।

ঈশ্বরদী মহিলা কলেজের ৪২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৬০ জন। ফেল করেছে ২৬২ জন। পাসের হার ৩৭ দশমিক ৯১ শতাংশ।

সরকারি সাঁড়া মাড়োয়ারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪৮৩ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৩৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৯ জন। পাসের হার ২৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। মানবিক বিভাগের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পাকশী কলেজের ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৩৩ জন। পাসের হার ২৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

মুলাডুলি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৩৩ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছে ২২ জন এবং ফেল করেছে ১১১ জন। পাসের হার ১৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

বাঁশেরবাদা ডিগ্রি কলেজের ১৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৩১ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ১৩৭ জন। পাসের হার ১৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

দাশুড়িয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ৩২৫ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ৭০ জন। ফেল করেছে ২৫৫ জন। পাসের হার ২১ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

অন্যদিকে, সলিমপুর ডিগ্রি কলেজের ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৬ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ৩৮ জন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ। এ কলেজ থেকেও কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

এ ছাড়া মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলও কলেজগুলোর মতো হতাশাজনক বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ২ জুলাই থেকে ঈশ্বরদীর পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কলেজশিক্ষক বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার ফল খারাপ হওয়ার অন্যতম কারণ শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কলেজে না আসা। কলেজে এলেও অনেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে মনোযোগী হয় না। কেউ কেউ আড্ডা দিয়ে ও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সময় কাটায়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা না গেলে ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব নয় বলে মনে করেন তাঁরা।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের একাংশের যথেষ্ট উদ্যোগ নেই। তাঁদের অভিযোগ, কিছু শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের চেয়ে প্রাইভেট পড়ানোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। কলেজের আশপাশে প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা গড়ে তুলে তাঁরা ব্যক্তিগত কোচিংয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষবিমুখতা বাড়ছে এবং ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

(এসকেকে/এসপি/অক্টোবর ৩১, ২০২৬)