প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
আশা’র চাপে মিনুর পরিবারে চরম দশা
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৮:৪৬:০১
শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর : দিনাজপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা "আশা সমিতি" চাপের মুখে চরম হতাশায় পড়েছেন গৃহিণী মিনু আক্তার (৩৫)। ঋণের টাকা পরিশোধ করিও তাকে জেল-হাজত বাস করতে হয়েছে। হাজত বাসের পর মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন ওই অসহায় নারী। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের সদর উপজেলার ১ নং চেহেলগাজী ইউনিয়নে গোপালগঞ্জ হাটের শেখহাটি এলাকায়।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ঋণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করার পরেও তাকে জেল খাটতে হয়েছে।আশা সমিতি অর্থঋন আদালতে ওই নারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর গ্ৰহনকৃত অর্থ আদালতের মাধ্যমে পরিশোধ করেন তিনি। আশা সংস্থা থেকে টাকা পরিশোধের প্রত্যয়ন এবং সমিতির পাশ বই পরিশোধ সাক্ষর নেয়ার পরেও প্রায় দুই বছর পর কেন একজন নিরাপদ নারীকে জেল খাটতে হলো এবং পুনরায় টাকা পরিশোধ করে জামিন নিতে হলো, তা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সমিতি সদস্যদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঋণ পরিশোধের সঠিক তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে না জানানোর কারনে এই হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী মোঃ শামীম ইসলাম।
আশা সমিতির পাশ বই ও সংগৃহীত তথ্য সুত্রে জানা যায়, দিনাজপুর সদর উপজেলার ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের শেখহাটি গ্ৰামের মোঃ শামীম ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ মিনু আক্তার আশা সমিতির শহরের ফকির পাড়া শাখার একজন নিয়মিত সদস্য ছিলেন।
পরিবার ও আশা সমিতির তথ্যসূত্রে জানা যায়, মিনু আক্তার ২০১৮ সালে ফকির পাড়া শাখা থেকে ৬২ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যা ও কষ্টের কারণে যথা সময়ে ঋন পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়।আশা সমিতি তাদের রুলস অনুযায়ী সংস্থার পক্ষে ফকির পাড়া শাখা ব্যবস্থাপক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে দিনাজপুর যুগ্ম দায়রা জজ আদালতে -২ এ এনআইএক্ট এ মিনু আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা চলাকালীন মিনু আক্তার পর্যায়ক্রমে টাকা দিয়ে, সর্বশেষ ১৮ এপ্রিল ২০২৫ এ সংস্থার গ্ৰহনকৃত ঋনের সমুদয় টাকা সুদসহ পরিশোধ করে। সংস্থার পাশ বই এ পরিশোধ সাক্ষর এবং তার উকিলের কাছে থেকে মামলা প্রত্যাহারের বিল ভাউচার গ্ৰহন করে। কিন্তু দীর্ঘদিন পর গত ২২ অক্টোবর ২৬ রাত ২টায় পুলিশ, আদালতের মাধ্যমে বকেয়া ঋণ আদায়ের সংস্থার দায়েরকৃত উক্ত মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং কারাগারে পাঠানো হয়। ঋণ সম্পূর্ণ পরিশোধ করার পরও কেন তাঁকে জেল খাটতে হলো, তা নিয়ে হতবাক হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। গত ২৭ অক্টোবর পুনরায় বকেয়া ঋণের পরিমাণ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ ২৬হাজার৭৫০টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করে জামিনে মিনু আক্তারকে মুক্ত করে আনা হয়।
ভুক্তভোগীর মিনু আক্তারের স্বামী মোঃ শামীম ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, "আমরা তো আগেই সব টাকা পরিশোধ করে দিয়েছি। সমিতির লোকজন আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরও আদালতে সঠিক তথ্য সময়মতো উপস্থাপন না করায় বা মামলা তুলে না নেওয়ায় আমার নিরপরাধ স্ত্রীকে জেল খাটতে হয়েছে।" তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে আশা সমিতির স্থানীয় ফকির পাড়া শাখার বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক সুমন দাসের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ প্রতিবেদক শাহ্ আলম শাহীকে জানান, আশা সমিতির কাছে মিনু আক্তারের ঋনের বকেয়া টাকা পরিশোধ হয়ে গেছে। সেই মর্মে গত ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর তৎকালীন সময়ে দায়িত্বরত শাখা ব্যবস্থাপক আদালতে গিয়ে উকিলের মাধ্যমে বকেয়া পরিশোধের তথ্য জানান হয়। হয়ত মামলা চলাকালীন সময় মিনু আক্তারের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট হয়েছিল, সেটার কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি কিংবা প্রশাসনিক জটিলতা হয়ে থাকতে পারে। তবে আমার দিকে থেকে বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে সর্বদা সহোগতিতা থাকবে। এ ঘটনায় সচেতন মহল মনে করছেন, এনজিওগুলোর ঋণ সংক্রান্ত মামলা এবং আইনি প্রক্রিয়াগুলো আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, যাতে কোনো সাধারণ গ্রাহককে বিনা কারণে এমন হয়রানি ও কারাবাসের মুখোমুখি না হতে হয়।
(এসএস/এসপি/অক্টোবর ৩১, ২০২৬)
