প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
বগুড়ায় জিপিএ-৫ কমলেও পাসের হারে শীর্ষে স্বনামধন্যরা
২০২৬ অক্টোবর ৩১ ১৯:০২:০১
এটিএম রাশেদুল ইসলাম, বগুড়া : চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ডে সার্বিক ফলাফলে বিপর্যয়ের ছায়া বগুড়া জেলাতে পড়লেও, শহরের নামি-দামি ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ফলাফলের ধারাবাহিকতা ও শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পেরেছে। বোর্ডের গড় পাসের হার যেখানে ৪৫.০৬ শতাংশ, সেখানে বগুড়ার শীর্ষ কলেজগুলোতে পাসের হার ছিল ৯৮ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে। তবে সামগ্রিক বিচারে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এসব প্রতিষ্ঠানেও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কমেছে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর বগুড়া জেলায় শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে মিলিনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল ও কলেজ এবং বিএএফ শাহীন কলেজ। মিলেনিয়াম স্কলাস্টিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে এবং এর মধ্যে ২৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে ৮০ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করে শতভাগ সাফল্যের রেকর্ড গড়লেও এই প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি।
বরাবরের মতো ফলাফলের শীর্ষ স্থান ও ফলাফলের মানের দিক থেকে বগুড়ায় আধিপত্য ধরে রেখেছে সরকারি আজিজুল হক কলেজ। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১,৪৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে ১,৪৫৫ জন পাস করেছে, যার পাসের হার ৯৮.৯১ শতাংশ। পুরো জেলায় অর্জিত মোট ১,৩০৯টি জিপিএ-৫-এর মধ্যে আজিজুল হক কলেজ থেকেই এসেছে ৭৪৭টি। কলেজের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাহফুজুল ইসলাম জানান, তাঁরা আরও ভালো ফলাফল আশা করেছিলেন, তবে যা হয়েছে তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট এবং ভবিষ্যতে এই ফলাফল আরও উন্নত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
শহরের অন্যান্য শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৪২৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৪২০ জন পাস করেছে (পাসের হার ৯৮.৮২ শতাংশ) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৪ জন।
বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে ৬৬৫ জন পরীক্ষা দিয়ে ৬৫৭ জন পাস করেছে (পাসের হার ৯৮.৮০ শতাংশ), যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন।
বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ থেকে ২৪০ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২৩৬ জন পাস করেছে (পাসের হার ৯৮.৩৩ শতাংশ) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১ জন। বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ করলে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ফলাফলের একটি স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪০ জন পরীক্ষা দিয়ে শতভাগ পাসের পাশাপাশি ৩৩টি জিপিএ-৫ এসেছে। মানবিক বিভাগে ৭২ জনের মধ্যে ৭১ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। তবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৫ জন পাস করলেও কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। ফলাফলের মূল্যায়নে বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এবার পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি এবং যাচাই-বাছাই যথাযথভাবে করা হয়েছে। জিপিএ-৫ কমলেও পাশের হারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আগামীতে শিক্ষার্থীদের মূল বই খুঁটিয়ে পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যান্য প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজ থেকে ২৯৯ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৮৩ জন পাস করেছে (পাসের হার ৯৪.৬৫ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন) এবং আরডিএ ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ থেকে ২৬১ জন পরীক্ষা দিয়ে ২৪৭ জন পাস করেছে (পাসের হার ৯৪.৬৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ জন)। এ ছাড়া বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ থেকে ১৪০ জন পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১২৯ জন (পাসের হার ৯২.১৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন) এবং বগুড়া সরকারি কলেজ থেকে ৭৭২ জন পরীক্ষা দিয়ে ৬৯৪ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮৯.৯০ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৭ জন)।
বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ ও সরকারি শাহ সুলতান কলেজে। সরকারি মজিবর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজ থেকে ১,৪৫২ জন পরীক্ষা দিয়ে ১,১৮৭ জন পাস করেছে (পাসের হার ৮১.৭৫ শতাংশ) এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬ জন। অন্যদিকে সরকারি শাহ সুলতান কলেজে পাসের হার নেমে এসেছে ৬৯.৯১ শতাংশে; সেখানে ১,৩৯৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৭৮ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৪ জন।
উজ্জ্বল ফলাফলের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে বগুড়ার পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, যেখান থেকে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। রাজশাহী বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় শূন্য পাসের হার বা শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—গাবতলী উপজেলার তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ ও বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ, ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ, এবং কাহালু উপজেলার দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ ও আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। এর মধ্যে তছলিম উদ্দিন তরফদার কলেজ থেকে ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। বাগবাড়ি মডেল মহিলা কলেজ থেকে ৩ জন, গোসাইবাড়ি মহিলা কলেজ ও দুর্গাপুর আইডিয়াল মহিলা কলেজ থেকে ২ জন করে অংশ নিয়ে সবার ফলাফলই অকৃতকার্য এসেছে। এ ছাড়া আল্লামার তাকিয়া হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
সার্বিক ফল বিপর্যয় ও মূল্যায়নের বিষয়ে বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ জানান, এবার সারাদেশে পাসের হার ও জিপিএ-৫ উভয়ই কমেছে। একে পরীক্ষার্থীদের সঠিক ও প্রকৃত মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনের পরীক্ষার্থীদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হয়ে পরীক্ষার টেবিলে বসা উচিত।
(এআরআই/এসপি/অক্টোবর ৩১, ২০২৬)
