ঢাকা, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের বাইরে » বিস্তারিত

নেতানিয়াহুকে হটাতে ‘ইহুদি-আরব’ জোটের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

২০২৬ নভেম্বর ০১ ১৫:২৯:০১
নেতানিয়াহুকে হটাতে ‘ইহুদি-আরব’ জোটের দাবিতে ইসরায়েলে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে হটাতে দেশটির বিরোধীদলগুলোকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করার আহ্বান জানিয়েছে তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ বিশাল বিক্ষোভ করেছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এটিই হয়তো দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একজন ‘বড় চতুর রাজনীতিবিদ’।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় দেশটিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা গাডি এইসেনকোট এর আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সহযোগিতা নেওয়া তাকে সরকার গঠনে সহায়তা করতে পারে।

রামাল্লা থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহ জানান, “মানুষ সত্যিই চায় পরিবর্তনের এই ভোটটি সফল হোক এবং তাদের বিশ্বাস, গাডি এইসেনকোটসহ অন্যান্য ইহুদি-ইসরায়েলি নেতাদের এই জনমতের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত।”

এদিকে শনিবারের বিক্ষোভের সময় নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও পাল্টা বিক্ষোভ নিয়ে উপস্থিত হন। তারা স্লোগান দিয়ে দাবি জানান, “ইসরায়েলের এমন কোনো সরকার থাকা উচিত নয় যার পেছনে তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সমর্থন রয়েছে।”

ভোটের হিসাব-নিকাশ
মঙ্গলবারের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন এবং বিরোধীদলীয় আইসেনকোটের জোট ৪৮টি আসন জিতেছে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের সংসদে সরকার গঠনের জন্য ৬০টি আসনের প্রয়োজন, যা কোনো পক্ষই একা অর্জন করতে পারেনি।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের তিনটি আরব-নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচনে দারুণ সাফল্য দেখিয়ে মোট ১৯টি আসন জিতেছে। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আরব দলগুলোর জোটে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

সাবেক সেনাপ্রধান আইসেনকোটের দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন করলে তা অনায়াসেই ৬৭ আসনের স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশের কাছে আরবদের সঙ্গে হাত মেলানো অত্যন্ত বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে ‘কারচুপি’ ও কাতার থেকে তহবিল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। যদিও কাতার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে একে অপপ্রচার বলে আখ্যায়িত করেছে।

আল-জাজিরার সংবাদদাতা নূর ওদেহ আরো জানান, ইসরায়েলি উগ্র-ডানপন্থি মহল ফিলিস্তিনি ইসরায়েলিদের এই ঐতিহাসিক ভোটদানকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করছে এবং একে গত ৭ অক্টোবরের হামলার সঙ্গে তুলনা করছে। ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর বর্তমানে আক্রমণের মুখে রয়েছে, কারণ আইনসেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তার চাবিকাঠি এখন তাদের হাতেই রয়েছে।

তথ্যসূত্র : আল-জাজিরা

(ওএস/ এএস/নভেম্বর ০১, ২০২৬)