ঢাকা, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » খেলা » বিস্তারিত

‘সাফ জিতলেই জাতীয় দলকে ‘সর্বোচ্চ উপহার’ দেবে সরকার’

২০২৬ নভেম্বর ০২ ১৪:১৯:৫৯
‘সাফ জিতলেই জাতীয় দলকে ‘সর্বোচ্চ উপহার’ দেবে সরকার’

স্টাফ রিপোর্টার : কাঞ্চন, সুজন, নজরুল, ফরহাদ, আলফাজ আহমেদরা ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের পরিচিত মুখ। অন্যদিকে মিঠু, এনামুল, কমল, সবুজ, মামুনুল, এমিলিরা ২০১০ সালের এসএ গেমসে সোনাজয়ী দলের সদস্য। দুই দলের মধ্যে একটি নামই ছিল সবচেয়ে পরিচিত আমিনুল হক। দুই ঐতিহাসিক দলেরই সদস্য ছিলেন তিনি। বর্তমানে যিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

তবে এবার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, মাঠে নেমেছিলেন দুই দলের খেলোয়াড় হয়ে। ম্যাচের ফলাফলে জয়ী ২০১০ সালের দল, ২০০৩ সালের সাফজয়ীদের হারিয়েছে ২-০ গোলে।

রবিবার (১ নভেম্বর) ‘টেকনো সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬’-এর প্রচার-প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয় দুই চ্যাম্পিয়ন দলের এই প্রীতি ম্যাচ। আমিনুল হক প্রথমার্ধে খেলেছেন ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের জার্সিতে, বিরতির পর গায়ে জড়িয়েছেন ২০১০ সালের এসএ গেমসজয়ী দলের জার্সি। দুই দলের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও দিন শেষে জয় উদ্‌যাপন করেছে ২০১০ সালের দল।

ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আমিনুল বলেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবলের ইতিহাসে সেরা সাফল্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০০৩ সালে দেশের মাটিতে প্রথম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন এবং ২০১০ সালে সর্বশেষ এসএ গেমসে স্বর্ণপদক জয়।’

দুই দলেরই সদস্য হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৩ সালের দলে আমি গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছি। আর ২০১০ সালের যে দলটি স্বর্ণপদক জিতেছিল, সেই দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দুটি দলেরই সদস্য হতে পেরে আমি সৌভাগ্যবান।’

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মালদ্বীপের বিপক্ষে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৫-৩ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই ফাইনালে বাংলাদেশের গোলপোস্ট সামলেছিলেন আমিনুল। অন্যদিকে ২০১০ সালের এসএ গেমসের ফুটবল ফাইনালে আফগানিস্তানকে ৪-০ গোলে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক ও গোলরক্ষক হিসেবে সেই দলের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি।

দুই দলের খেলোয়াড়দের আবার একসঙ্গে মাঠে নামার উপলক্ষ ছিল আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলকে উৎসাহ দেওয়া। আগামী ৫ নভেম্বর ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। ২০১৮ সালের পর আবারও বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। স্বাগতিকদের প্রথম ম্যাচ ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে, আর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৭ নভেম্বর।

আমিনুল বলেন, ‘আমাদের আগামী ৫ নভেম্বর থেকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের খেলা শুরু হচ্ছে। সেই দলকে শুভকামনা জানাতে এবং উৎসাহিত করতেই ২০০৩ ও ২০১০ সালের দুই চ্যাম্পিয়ন দল প্রীতি ম্যাচ খেলেছে।’

দীর্ঘদিনের শিরোপাখরা কাটিয়ে দেশের মাটিতে আবারও সাফ জয়ের প্রত্যাশা আমিনুলের। তার বিশ্বাস, ২০০৩ ও ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর মতো বর্তমান জাতীয় দলও দেশপ্রেম ও দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি, ঢাকার মাটিতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ আবারও চ্যাম্পিয়ন হবে। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই শিরোপার অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশ দলকে আমাদের শুভকামনা।’

শুধু শুভকামনাই নয়, শিরোপা জিতলে জাতীয় দলের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আমিনুল বলেন, ‘বাংলাদেশ দল যদি চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করে, ইনশাআল্লাহ সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জন্য সর্বোচ্চ উপহার থাকবে। সেই উপহারের অপেক্ষায় আপনারা থাকেন।’

এদিকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচের টিকিটের চড়া মূল্য নিয়ে সমর্থকদের অসন্তোষের বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে আমিনুল জানান, টিকিট ব্যবস্থাপনা সরাসরি বাফুফের নিয়ন্ত্রণে নেই বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে দর্শকদের মাঠে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে টিকিটের দাম পুনর্বিবেচনার জন্য বাফুফেকে সাফের সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

২০০৩ সালের ফাইনালের স্মৃতি আজও আমিনুলের কাছে আবেগের। মালদ্বীপের বিপক্ষে টাইব্রেকারে নিজের দ্বিতীয় শট ঠেকানোর মুহূর্ত এবং সুজনের শেষ শটে বাংলাদেশের শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার দৃশ্য এখনো তার মনে অমলিন। আমিনুল বলেন, ‘এটা অবিশ্বাস্য একটি সন্ধ্যা ছিল। দ্বিতীয় শটটি আমি ঠেকিয়েছিলাম। আমাদের সুজন শেষ শটটি গোল করার পর মনে হচ্ছিল, গ্যালারির দর্শকেরা উপচে মাঠে ঢুকে পড়েছেন। পুরো বাংলাদেশের প্রত্যাশিত একটি জয় ছিল সেটি। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

সেই স্মৃতি নিয়েই এবার নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের গোলরক্ষক এবং ২০১০ সালের এসএ গেমসজয়ী দলের অধিনায়ক আমিনুলের প্রত্যাশা, ২০২৬ সালেও ঢাকার মাটিতে শিরোপা জিতে নতুন এক স্মৃতি উপহার দেবে জাতীয় দল।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০২, ২০২৬)