প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত
‘আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার আছে পুলিশের’
২০২৬ নভেম্বর ০৩ ১৫:০৯:৪৪
স্টাফ রিপোর্টার : পুলিশের আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকারও আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে চলতে হবে।
পরিস্থিতি অনুযায়ী আনুপাতিক বল প্রয়োগ করতে হবে। এমনকি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কোথায় গুলি করলে প্রাণহানি এড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, পুলিশকে তা মাথায় রাখতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, পুলিশের বলপ্রয়োগ করার আইনি অধিকার আছে। পুলিশ আইনি অধিকারের মধ্যে কাউকে হত্যা করার অধিকার আছে, যদি সেই ধরনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়, আইনি অধিকারের মধ্যে। কিন্তু যে কথাটা বারবার বলছি, সেটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে এবং প্রপোশনেট বল প্রয়োগের মাধ্যমে।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বল প্রয়োগের ঘটনা স্বীকার করে তিনি বলেন, কিন্তু এই ধরনের একটা ঘটনায় আওয়ামী লীগ যেভাবে ঢোকে আমরা না ফার বেটার করেছি, আমি মনে করি, তারপরও দুয়েকটা জায়গায় ভুলভ্রান্তি হতে পারে, হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, দীর্ঘদিন যখন কেউ একটা প্রসেসে কাজ করেন, সেই প্রসেসে কাজ করতে গিয়ে যেটা হয়, যে কোথাও কোথাও একই চর্চা চলে আসতে পারে, এটি একটু সময় দিতে হবে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, কিন্তু আমি আপনাদের সরকারের অবস্থান জানাচ্ছি যে, এই পুলিশ জনগণকে মানে সেনাবাহিনীর সাথে পুলিশের ডিফারেন্সটা কী?
সেনাবাহিনী যখন ডিল করে, সেনাবাহিনীর বন্দুকও যদি তাঁক করে, সে বন্দুক টাক করে শত্রুর দিকে ও চায় একটা গুলিতে যেন একজন শত্রু মারা যায়, এই তো? আর পুলিশ যখনই এনগেজ করে পিপলের সাথে, এমনকি মাঝে মাঝে বন্দুক তাঁক করে, কিন্তু তার বন্দুক তাঁক করে সে তার নিজের জনগণের দিকে, সুতরাং পুলিশকে এটা মাথায় রাখতে হবে, এমনকি প্রাণঘাতী অস্ত্র, পুলিশ ক্যাসেটের কাছে লেথাল ওয়েপন থাকে, তো সেই গুলিটাও কোথায় করব? কোথায় করে তাকে লিস্ট ক্যাজুয়ালটিতে নিবৃত্ত করা যাবে, এ চর্চাগুলো আমরা এ সরকারের অধীনে পুলিশ করবে, এটা আপনাদের নিশ্চিত করছি, আর একটু সময় দেন, যতটুকু দেখছেন এগুলো অনেক বেশি কমে যাবে।
পুলিশের প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের আইনি সীমা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, অবশ্যই আইনের, আইনের মধ্যে, মানে আপনি মানে লেখা আছে পুলিশ কোনো পরিস্থিতিতে কাউকে হত্যা করার জন্য গুলি করতে পারবে, যদি ওই আইনি পরিস্থিতি হয় তখন।
এ প্রসঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদের মৃত্যুর উদাহরণ টেনে জাহেদ উর রহমান বলেন, যেমন ধরুন আমি একটা সহজ উদাহরণ দেই, আবু সাঈদ, আবু সাঈদ কী কোনো থ্রেট তৈরি করছিল? আমি জুলাইয়ের আবু সাঈদের কথা বলছি ও দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে দাঁড়িয়েছিল, ওর আশপাশে অন্যকোনো আন্দোলনকারী ছিল কি না? কেউ পুলিশকে ইট পাটকেল, মানে গুলি দূরে থাক, ইট পাটকেল মারছিল? তো আপনাকে গুলি করেছেন কেন?
সো দিজ আর দ্যা কোয়েশ্চেনস, কখনো যদি এরকম হয়, ওই যে আবার বলছি, পুলিশের কাছে তো লেথাল ওয়েপন থাকে।
পুলিশের কাছে প্রাণঘাতী অস্ত্র থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা বলছি পুলিশের কাছে ওয়ার গ্রেড ওয়েপন থাকতে হবে না কিন্তু ইভেন যে রিভলভার, এটা একটা লেথাল ওয়েপন, শর্টগান না রিভলভার একটা লেথাল ওয়েপন, থাকে তো, তার মানে হচ্ছে পুলিশের কোনো একটা পরিস্থিতি কখনো হতে পারে যে সে তার লেথাল ওয়েপন ব্যবহার করবে।
কিন্তু আমরা এই কথাটাই বলার চেষ্টা করছি, সেটা আইনি প্রক্রিয়ায়, আইনি নিয়মের মধ্যে এবং অবধানিত ছিল কি না, সেই প্রেক্ষাপটে, বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
হাসিনা সরকারের সময় পুলিশের বল প্রয়োগের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, হাসিনার সময় আমরা দেখি যে ট্রিগার হ্যাপি বলি, আপনি ট্রিগার হ্যাপি পুলিশ, যেখানে একটু বলপ্রয়োগ করলে, একটু লাঠিচার্জ করলে, একটু কাঁদানে গ্যাস দিলেই একটা কাউকে ডিসপেক্ট করবে, মানে আপনি গুলি করে দিতেন, যেখানে শর্টগান দিয়ে গুলি করা যায়, সেখানে আপনি লেথাল ওয়েপনের গুলি করে মানুষ মেরে ফেলেছেন, এই জায়গাগুলো থেকে সরে আসতে হবে, আমার বক্তব্য ছিল সেটা।
সাম্প্রতিক বলপ্রয়োগ ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এখনই, এখনই কোনো কথা এভাবে না বলি, অনেকে অনেক রকম অভিযোগ করছেন, সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচুর কথাবার্তা হচ্ছে, কিন্তু একটা রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের মতো চলবে, এটা নিয়ে নিশ্চিতভাবেই তদন্ত হবে, রাষ্ট্রের যে কোনো নাগরিক যখন এ রকম মৃত্যুর শিকার হন, তার ব্যাপারে জেনুইন তদন্ত হবে এবং সেটার ব্যাপারে যে কোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, প্রচুর ফ্রেমিং আছে, নানান রকম ফ্রেমিং আছে সোশ্যাল মিডিয়াতে, আমরা যেন সেটার দিকে খুব বেশি দৃষ্টি না দিই।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে শ্রমিকদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আগেই নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যদি গার্মেন্টস যে মজুরি কমিশন তৈরি হওয়া, টেকনিক্যালি একই তৈরি হওয়ার কথা ছিল না। এই মজুরির রিভিশন হয়েছে পাঁচ বছর পরপর। ২০২৩ সালে কিন্তু একবার মজুরি রিভিশন হয়েছিল, ২৩ সালে। ২৩ সালের পর ২৬ এ এসে এই কমিশন মজুরির জন্য হওয়ার কথা ছিল না।
মজুরি পুনর্নির্ধারণের আগের বছরগুলোর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮, ২০২৩ এর পরে আবার ২০২৬-এ হলো।
(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৩, ২০২৬)
