ঢাকা, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » পাঠকের লেখা » বিস্তারিত

এক সমাজসেবীর কর্মকথা

২০২৬ নভেম্বর ০৪ ১৭:৫৩:৩৭
এক সমাজসেবীর কর্মকথা

সৌরভ হাসান শিশির


মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি চাওয়া পাওয়ার আকাঙ্খায় বিভোর থাকে। যার খাবার নেই, সে খেতে চায়। যার খাবার আছে সে পেতে চায় আরও ভাল খাবার। এই অবারিত পাওয়ার আকাঙ্খাকেই অর্থনীতির ভাষায় অভাব বলে। আর সকল অভাব মাড়িয়ে যে ব্যক্তি মানুষের কল্যাণে কাজ করেন তিনিই হলেন তরুণ সমাজসেবী ছানোয়ার হোসেন সোহাগ। যার গ্রামের বাড়ি দক্ষিণ জামালপুরের দিগপাইত ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে। সম্প্রতি তিনি তাঁর ইউনিয়নের জন সম্পৃক্ত নানাবিধ সমস্যা দেখলেই তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। কেউ অসুস্থ?

চিকিৎসা করার টাকা নেই। তিনি তা জানতে পেরেই চিকিৎসা সেবায় হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠে পানি জমেছে, এতে করে শিক্ষার্থীদের চলাফেরায় কিংবা খেলাধুলায় অসুবিধার কথা জানতে পেরেই ছুটে যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে। নিঁচু মাঠে মাটি ফেলে ভরাটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন। সম্প্রতি ছানোয়ার হোসেন সোহাগের উল্লেখযোগ্য সমাজসেবা দিগপাইত গ্রামের পূর্বপাড়ায় সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন বংশাই নদীর ওপর যোগাযোগ ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের চরম দুর্ভোগ নিরসনে আত্মনিয়োগ। নদীর এপার-ওপারের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে নিজ উদ্যোগে সেখানে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিগপাইত গ্রামের পূর্বপাড়া ও সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন বংশাই নদীর ওপর আগে একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ছিল। কিন্তু সেটি দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। একটু বৃষ্টিবাদল হলেই বাঁশের সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে যেত এবং পারাপারের সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটত। এই জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোর কারণে স্থানীয় গ্রামবাসী, রোগী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে সরকারি হাসপাতালে আসা-যাওয়ার সময় এই এলাকার লোকজনকে চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। স্থানীয়দের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ এবং যাতায়াতের চরম সমস্যার কথা অনুধাবন করে এগিয়ে আসেন তরুন সমাজসেবী মোঃ ছানোয়ার হোসেন সোহাগ। তিনি নিজ উদ্যোগে ও অর্থায়নে বংশাই নদীর ওপর জরাজীর্ণ সেই বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে একটি মজবুত কাঠের সাঁকো তৈরি করে দেন। নতুন এই কাঠের সাঁকোটি তৈরি হওয়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সাঁকোটি চালুর সময় এলাকার নানা বয়সী মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রঙ-বেরঙের বেলুন ও ফেস্টুন দিয়ে সাঁকোটিকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়, যা স্থানীয়দের মনে আনন্দের জোয়ার আনে।

দীর্ঘদিন পর যোগাযোগের এই সুব্যবস্থা হওয়ায় এলাকার নারী,পুরুষ, বয়োঃবৃদ্ধ, শিশু-কিশোর, শিক্ষক -শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বংশাই নদীর ওপর আগের সেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর জায়গায় নতুন এই কাঠের সাঁকো নির্মাণের ফলে দিগপাইত গ্রামের পূর্বপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী ও স্বস্তিদায়ক সমাধান হলো। এবার এলাকার জন-মানুষরা, তরুণ সমাজসেবী ও উদ্যোক্তা মোঃ ছানোয়ার হোসেন সোহাগকে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।

এ বিষয়ে ছানোয়ার হোসেন সোহাগ বলেন, "জনসেবা হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম। দিগপাইত গ্রামের পূর্বপাড়ায় বংশাই নদীর ওপর আগের বাঁশের সাঁকোটি দিয়ে মানুষের চলাচল প্রায় অসম্ভব ছিল। মানুষের এই চরম দুর্ভোগ আমাকে গভীরভাবে ভাবিয়েছে। আমাকে এলাকার জন মানুষ চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলেই আমি নির্বাচন করবো। এতে নির্বাচিত হই বা না হই, সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে সবসময় তাদের পাশে ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকব ইনশাআল্লাহ।

স্থানীয়রা তাঁদের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, "জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজ উদ্যোগে এমন একটি জনকল্যাণমূলক কাজ করায় মোঃ ছানোয়ার হোসেন সোহাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সাধারণ মানুষের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ প্রমাণ করে যে তিনি সত্যিকারের জনদরদি মানুষ।তাঁর মতো মানুষই পারবে ইউনিয়ন পরিষদে নেতৃত্ব দিতে।"

লেখক: তরুণ সমাজ ও সংবাদসেবী।