প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
‘জয় বাংলা’ শ্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি
২০২৬ নভেম্বর ০৫ ১৯:০৪:০৩
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ সরকারী জেলা স্কুলের ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়ায় ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টি.সি) দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত ওই ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টি.সি) দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ জিয়াউল হক। ছাড়পত্র পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- স্কুলের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সি, কাজী সাইদুল ইসলাম সাইদ, শ্রান্ত মজুমদার। শেখ আব্দুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান, রিয়াজুল মুন্সি, ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রেজাউল করীম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিদ কাজী। গত ৬ অক্টোবর দুপুরে স্কুলে টিফিনের পর ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পক্ষে স্লোগান দেয় স্কুলটির অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাঁসবে শ্লোগান দেয়। পরে সেই ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় । মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয় ভিডিওটি।
ঘটনার পর দিন ৭ অক্টোবর স্কুলের সহকারী শিক্ষক মোঃ ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে গতকাল বুধবার (৪নভেম্বর) তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারপর ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয় । এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদেরকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক মোঃ জিয়াউল হক বলেন, গত ৬ অক্টোবর স্কুলের মধ্যে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে স্লোগান দেয় কিছু শিক্ষার্থী। এ সময় আমি নামাজে ছিলাম। পরে নামাজ থেকে আসার পরে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাকে ফোন করে মিছিলের বিষয়ে জানতে চায়। পরে আমি অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে শুনে বিষয়টি নিশ্চিত হই যে, স্কুলে এই ধরনের মিছিল বা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গাজী আসাদুজ্জামানের এক ব্যক্তি ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন, এটা সতর্ক বার্তা সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য। একটা ভুল করলেই লেখাপড়া শেষ হয়ে যেতে পারে, জীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
এ সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে গুড ডিসিশন বলে মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ এরচেয়ে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন। মোফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন। এছাড়া শ্লোগান দেওয়ায় বহিস্কৃত শিক্ষার্থীদেরও অনেকে বাহবা দিয়েছেন।
(টিবি/এসপি/নভেম্বর ০৫, ২০২৬)
