ঢাকা, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত

মহম্মদপুরে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা 

২০২৬ নভেম্বর ০৭ ১৮:০৯:০৯
মহম্মদপুরে ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা 

বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : মাগুরার মহম্মদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০৬তম ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, মেলা ও বিচারগানের অনুষ্ঠান। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার ডুমুরশিয়া ডিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ২২টি লাঠিখেলার দল অংশগ্রহণ করে। লাঠিখেলা দেখতে মাঠে সমাগম ঘটে হাজারো দর্শকের।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও লোকজ সংস্কৃতির সংরক্ষণ, চর্চা এবং বিকাশে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বাউলগান, লোকসংগীত, যাত্রাপালা ও সার্কাসসহ দেশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

তিনি আরও বলেন, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচের মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং এগুলো দেশের ইতিহাস,সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণ, আয়োজক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

এবারের আয়োজনে বিশেষভাবে নজর কেড়েছেন শ্রীপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডি গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী জামাল সর্দার। তিনি ৫৫ বছরের বেশি সময় ধরে লাঠিখেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, কামারখালী এলাকার গয়েশপুর গ্রামের নিহাল সর্দারও প্রায় ৫০ বছর ধরে এ খেলার চর্চা করছেন। তিনি জানান, বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতেই দীর্ঘদিন ধরে এই খেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ ও মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী।

ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকুনুজ্জামান খান,উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. এম. এম. রইচ উদ্দীন, বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম, যুবদল নেতা মো. তরিকুল ইসলাম তারা ও তানজির রহমান সোহাগসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

লাঠিখেলাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা ও লোকজ সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

(বিএস/এসপি/নভেম্বর ০৭, ২০২৬)