ঢাকা, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

প্রচ্ছদ » জাতীয় » বিস্তারিত

সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার

২০২৬ নভেম্বর ০৮ ১৫:০৬:১৬
সাত বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিশ্চিহ্ন প্রায় ৩০০ পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার : সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, অ্যাম্বুলেন্স ও বাস দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারাচ্ছেন পরিবারের একাধিক সদস্য। গত ছয় বছর ১০ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০০ পরিবার পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

রবিবার (৮ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন সংবাদমাধ্যম, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংগঠনটির নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী নিহতের ঘটনা ঘটেছে ১৯৩টি। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৮৬ জন। এ ছাড়া মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পিতা ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ১৫৯টি। এসব ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩১৮ জন।

অটোরিকশা দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। এ ধরনের ৫২৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন ২১১টি দুর্ঘটনায়, তিনজন ১১৮টি, চারজন ৯২টি, পাঁচজন ৫৩টি, ছয়জন ৩৮টি এবং সাতজন ১৩টি দুর্ঘটনায়।

মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১৮৬টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭০৮ জন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন ৪৮টি দুর্ঘটনায়, তিনজন ৪৬টিতে, চারজন ৩৯টিতে, পাঁচজন ২৮টিতে, ছয়জন ২০টিতে, ১১ জন চারটিতে এবং ১৪ জন একটি দুর্ঘটনায়।

প্রাইভেট কার দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ১০৮টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩৫২ জন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন ৩৪টি দুর্ঘটনায়, তিনজন ৩১টিতে, চারজন ২৪টিতে এবং পাঁচজন ১৯টি দুর্ঘটনায়।

অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ৪৫টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৬২ জন। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন ১১টিতে, তিনজন ১৫টিতে, চারজন ৯টিতে, পাঁচজন সাতটিতে এবং আটজন তিনটি দুর্ঘটনায়।

বাস দুর্ঘটনায় একই পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ৩২টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৮৫ জন। এর মধ্যে একই পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন ১৭টি দুর্ঘটনায়, তিনজন ৯টিতে এবং চারজন ছয়টি দুর্ঘটনায়। এ ছাড়া পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার একটি ঘটনাও ঘটেছে।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রাণহানির পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে, পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে যাতায়াতের প্রবণতা, মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচল, ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্স, চালকদের অদক্ষতা ও বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা।

এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে মোটরসাইকেল আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সব মহাসড়কে সড়ক বিভাজক ও সার্ভিস রোড নির্মাণ, গ্রামীণ সড়কের সঙ্গে মহাসড়কের নিরাপদ সংযোগ নিশ্চিত করা এবং সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের চলাচল নজরদারির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।

(ওএস/এএস/নভেম্বর ০৮, ২০২৬)