প্রচ্ছদ » দেশের খবর » বিস্তারিত
লোহাগড়ায় নিষিদ্ধ গাইড বইয়ের জমজমাট ব্যবসা
২০১৫ মার্চ ০২ ১৫:৩২:২৭
লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার বইয়ের দোকান গুলোতে প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণীর নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বই। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বই বিক্রি হলেও রহস্যজনক কারণে এ সব প্রকাশনা সংস্থার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না।
জানা গেছে, নিয়ম কানুনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে লোহাগড়া পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র গুলোতে প্রকাশ্যে গাইড ও নোট বইয়ের জমজমাট ব্যবসা চলছে। এক শ্রেণীর শিক্ষক নেতারা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে এসব নিষিদ্ধ গাইড ও নোট বই।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে জানা যায়, সরকার ১৯৮০ সালে আইন করে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠ্য পুস্তকের নোট বই মুদ্রন, বাঁধাই, প্রকাশনা, আমদানী, বিতরণ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ করে। এছাড়া উচ্চ আদালতের এক রায়ে গাইড ও নোট বই মুদ্রন ও বাজারজাত সম্পুর্ন নিষিদ্ধ করা হয় ।
সরেজমিনে লোহাগড়া বাজারের অর্পনা স্টোর, জনতা লাইব্রেরী, জামান বুক ডিপোসহ আশ-পাশের বইয়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থার গাইড ও নোট বই বিক্রি করছে বই ব্যবসায়ীরা। এ সব প্রকাশনা সংস্থা গুলো হলো আশার আলো, জুপিটার, লেকচার, পাঞ্জেরী, পুথিনীলয়, অনুপম ও জননী উল্লেখযোগ্য। অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এসব গাইড ও নোট বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন। অভিভাবক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অন্তত ৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে আশার আলো প্রকাশনীর গাইড বই চালাতে উপজেলার একটি শিক্ষক সমিতির নেতাদের গোপনে ১ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। ওই শিক্ষক সমিতি তাদের সমিতিভুক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের হাতে আশার আলো প্রকাশনীর গাইড ও নোট বই তুলে দেন। সব চেয়ে অবাক করা বিষয়টি হলো, এ সব গাইড ও নোট বইয়ের কভার পেজে গাইড ও নোট শব্দটি তুলে দিয়ে সৃজনশীল শব্দটি ব্যবহার করছে। ফলে, প্রশাসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্তা ব্যক্তিরা বাজারে গাইড ও নোট বই খুঁজে পাচ্ছেন না।
এদিকে, এনসিটিবি কর্তৃক নির্ধারিত সহায়ক বই না পড়িয়ে উপজেলার ৩৫ টি মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাদের পছন্দ মতো গ্রামার ও ব্যকরণ বই পড়াচ্ছেন। লোহাগড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীতে এ্যাডভান্স গাইড, লক্ষ্মীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় ও কেডিআরকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্পন্দন, প্রত্যয় ও অনির্বাণ বাংলা ব্যকরণ ও গ্যাকো ও মডার্ণ ইংরেজি গ্রামার, কাশিপুর এসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ্যাডভান্স গাইড, লক্ষ্মীপাশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পপি গাইড, কেটিএম মাধ্যমিক ও এবিএনকে আমাদা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে জননী গাইড বই কিনতে শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন। উপজেলার প্রত্যেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকগন শিক্ষকদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এ ব্যপারে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, ‘গাইড বই পড়লে ছেলে-মেয়েরা মূল বই পড়তে চায়না, ফলে শিক্ষার মান কমে যায়। যদি কোন বিদ্যালয়ে গাইড বই পড়াতে দেখা যায় তাহালে ঐ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে’। এক প্রশ্নের জবাবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শাহীদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সরেজমিনে স্কুল পরিদর্শন করে কোন গাইড বই পড়াতে দেখি নাই’। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোকতার হোসেন বলেন, শীঘ্রই এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
(আরএম/পিবি/মার্চ ০২,২০১৫)
